অগ্রদ্বীপে শুরু হলো তিনদিন ব্যাপী গোপীনাথের মেলা

অগ্রদ্বীপে শুরু হলো তিনদিন ব্যাপী গোপীনাথের মেলা

সুজিত বর্মণ, ফাইনাল এক্সপোজার -:

         গোপীনাথ এবং বৈষ্ণব সাধক গোবিন্দ ঘোষের জন্য সুপরিচিত হলো পূর্ব বর্ধমানের ক্ষুদ্র জনপদ অগ্রদ্বীপ। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের নির্দেশে ভক্ত গোবিন্দ ঘোষ ভাগীরথীর তীরে অবস্থিত অগ্ৰদ্বীপে গোপীনাথ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন ও সেবা শুরু করেন। প্রতি বছর চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে গোপীনাথ মেলা বসে। মেলার প্রাণকেন্দ্রে আছেন সাধক গোবিন্দ ঘোষ এবং তাঁর আরাধ্য গোপীনাথ। বাংলার অন্যতম বিখ্যাত সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উৎসব হলো এই গোপীনাথ মেলা। তিনদিন ধরে এই মেলা চলে। কাঠ ও মাটির তৈরি বিভিন্ন পুতুল, ও গ্রামীণ পণ্যের জন্য এই মেলা বিখ্যাত। মেলা উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাউল, হরিনাম সংকীর্তন, ও দেহতত্ত্বের গান  পরিবেশিত হয়।

     প্রায় ৪৫০ বছরে পুরানো এই গোপীনাথের মেলা। মহাপ্রভুর নীলাচলে যাত্রার সময় অন্য শিষ্যেদের সঙ্গে ছিলেন গোবিন্দ ঘোষ। সকলেই নীলাচলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও মহাপ্রভুর নির্দেশে অগ্রদ্বীপে থেকে যান গোবিন্দ ঘোষ। তিনি গোপীনাথের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। কথিত আছে, গোবিন্দ ঘোষের মৃত্যুর আগে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে কথা দিয়েছিলেন মৃত্যুর পর তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়া তিনিই করবেন। গোপীনাথ মন্দিরের পাশেই রয়েছে গোবিন্দ ঘোষের সমাধিস্থল। সেই থেকে প্রথা মেনে প্রতিবছর চৈত্রমাসের একাদশী তিথিতে গোবিন্দ ঘোষের প্রয়াণ দিবসে গোপীনাথ অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের মুর্তিকে বের করে আনা হয় গোবিন্দ ঘোশের সমাধিক্ষেত্রে। গোবিন্দ ঘোষের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান ঘিরে অগ্ৰদ্বীপ গ্ৰামে প্রতিবছর মেলা বসে। বাংলার সংস্কৃতি ও ঐক্যের প্রতীক  এই মেলায় গোপীনাথের দর্শনের জন্য ভক্তদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের আগমন ঘটে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *