তোমাদেরই ইন্দু (কলকাতা)

আমার কোনো বন্ধু নেই
আমার কোনো বন্ধু নেই –
যার কাছে আমি আমার ভাঙা দিনগুলো
নিঃশব্দে রেখে আসতে পারি।
যে আমার অগোছালো কষ্টগুলো
ধীরে ধীরে গুছিয়ে রাখবে
কোনো যত্নের আলমারিতে।
সত্যি বলতে আমার কোনো বন্ধু নেই।
যাদের বন্ধু ভেবেছিলাম
তারা ছিল কেবল পথের সঙ্গী –
দূরের ট্রেনযাত্রার মতো কিছু সময়,
কিছু গল্প, কিছু হাসি।
পথ শেষ হলেই,
তারা নেমে গেছে আলাদা স্টেশনে,
আমি রয়ে গেছি
আমার নিজের দীর্ঘ পথের ভেতর।
এই যে প্রতিদিন হাঁটি –
বুকের ভেতর জমে থাকা ক্লান্তি নিয়ে,
এই যে প্রতিদিন হাসি –
ভেতরে লুকোনো দুঃখের ভার নিয়ে,
তবু কোথাও এমন একটি ছায়া নেই
যার নিচে দাঁড়িয়ে বলবো –
“আজ খুব ক্লান্ত লাগছে।”
একলা দুপুর এলে
মনে হয় সময় থেমে গেছে,
একলা রাত এলে
মনে হয় পৃথিবীটা কত বিশাল
আর আমি কত ছোট।
হাত বাড়ালেও
কোনো হাত এসে ধরা দেয় না।
তাই আমি ভিড়ের মধ্যেই হারিয়ে যাই –
অচেনা মানুষের কোলাহলে,
অচেনা হাসির শব্দে।
ভুল মানুষে যত্নে জমা দেওয়া
আমার ছোট ছোট ভালোবাসাগুলো
হাওয়ায় ভেসে যায় দীর্ঘশ্বাস হয়ে।
তবু মনে মনে জানি –
কোথাও না কোথাও
হয়তো এখনও জন্ম নেয়নি সেই মানুষটা,
যার কাছে আমি
আমার সব ভাঙাচোরা দিন
খুচরো পয়সার মতো জমা রাখবো।
আর সে একদিন
নিঃশব্দে আমার পাশে বসে বলবে –
“তুমি এতদিন একা ছিলে কেন?”
তখন হয়তো আমি মৃদু হেসে বলবো—
“আমি একা ছিলাম না,
শুধু সত্যিকারের একজন বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”