রুনা মুখার্জী (কলকাতা)

বাবা যেদিন তোমাকে নিয়ে এসে আমাকে বলল, এটা তোমার বন্ধু,
দুজনে মিলে মিশে থেকো,
সেদিন আমি বলেছিলাম, ওরা তো গরিব আর আমাদের থেকে নিচু জাতের, তাই ও আমার বন্ধু হতে পারেনা।
রেগে গিয়ে বাবা বলেছিল, ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করো।
আসলে অতি প্রিয় বন্ধু ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাদের সন্তানকে কেউ অপমান করবে বাবা এটা মেনে নিতে পারেনি।
তুমি আমাকে বোনের মতোই ভালোবেসে আমার সব বদ আবদার কে মেনে নিতে শুরু করলে।
আমার বিছানায় তোমাকে শুতে দিতাম না,
খাবার টেবিলে তুমি পাশে বসলে আমি উঠে যেতাম।
একবার যখন আমার খুব জ্বর হয়েছিল, তখন তুমি মন্দিরে পুজো দিয়ে ফুল এনেছিলে আমার জন্য।
আমি বলেছিলাম, সামনের গঙ্গায় স্নান করে ফুলকে গঙ্গা জল দিয়ে ধুয়ে আমার মাথায় ঠেকাও। কারণ তুমি তো গরিব আর নিচু জাতের।
তুমি তাই করেছিলে।
তারপর তোমার এতটাই শরীর খারাপ হয়েছিল যে ডাক্তার বাবু বলেছিলেন ,অবস্থা খুব খারাপ।
সেদিন প্রথম প্রার্থনা করেছিলাম তোমার জন্য।
তুমি ভালো হয়ে উঠলে।
একদিন কলেজ যাওয়ার পথে কয়েকজন বদমাশ ছেলে যখন আমাকে ঘিরে ফেলল, তখন তুমি চিৎকার করে লোকজনকে ডাকলে আর সামনে এসে বললে, আমার বোনকে ছেড়ে দাও, আমাকে যা খুশি করো তোমরা। আমি বেঁচে গেলাম।
আজ আমার বিয়ে ।
হঠাৎ একটা টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে বললে, আমার জন্য রাখা আমার বাবার উপহার।
ওখানে খুশি মতো খরচা করো। বললাম, এটা তো তোমার জিনিস। তুমি বললে, সেই জন্যই তো আমি আমার জিনিস আমার বোনকে উপহার দিলাম।
আমি অবাক হয়ে গেলাম।
তোমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম।
সেদিনই বুঝতে পারলাম অর্থ, জাতী, ধর্ম দিয়ে মানুষকে বিচার করা যায় না।
সত্যিকারের মানুষ তো তারাই ,যাদের বিবেক আছে, সুন্দর ব্যবহার আছে, আর হৃদয়ে আছে অসীম ভালোবাসা ।
পৃথিবীতে এমন কিছু সম্পর্ক আছে যা রক্তের সম্পর্কের থেকে কোন অংশে কম নয়। যার প্রমান তুমি।
