করবী সাঁতরা (হরিপাল, হুগলী)

আমি দেবদাসী নই
নই সেবাদাসী
নই আমি রক্ষিতা
নই বারবনিতা,
আমি শুধু নারী
সকলের মঙ্গলকামী।
আমি জননী,দিদি,বোন
পিসি,মাসি,দিদা,
সম্বোধনে থাক যে নাম
আমি থাকি সাধাসিধা।
আমি অবলা,সহ্যশীলা
গোপনে বালিশ ভেজে
কখনও পাথর প্রতিম শীলা
সারারাত রয় জেগে।
কখনও মনের অগ্নিপাত
আগুনের ফুলকি ঝরে
বিদ্রোহী মনে রক্তপাত
মুখে বাক্য না সরে।
উপোসী মন শুভকামনায়
উদরের জ্বালায় নীরব
সবাই পরিতৃপ্তির বাসনায়
বোবামন হয় না সরব।
আমি শুধু নারী
পার্থিব চাহিদার জীবন
অসাধ্যের সমাধান পারি
সাজাতে পারি গৃহকোণ।
স্বাধীন বনের কোনো পাখি
ঊষার আভায় করি গান
খাঁচার বদ্ধ শিকল পরি
বন্ধ হয় সব তান।
মনপাখি যায় দূরদেশে
নিজের মনের গহনে থাকি
সম্মান, ভালোবাসা মেশে
গভীর মননে বেঁধে রাখি।
অপমানে স্নান করা রোজ
প্রাপ্য সম্মানের খোঁজ
অব্যক্ত প্রতিবাদ একদিন
রণচন্ডী রূপে চায় সুদিন।
সহস্রাধিক নির্যাতন যুগ যুগ
উদারমনস্কের অস্তিত্ব
মন খোঁজে নিরন্তন দিয়ে ডুব
সমাধান গণিতে স্বস্তি।
অপমানিত,অবহেলিত নই আমি
আমি জননী, সৃষ্টির মূলে আমি
প্রতিবাদের ঝড় তুলে আমি
তোমাদের নিধনে,রক্ষণও আমি।
একহাতে অশ্রু মুছে
আর একহাতে খড়্গ তুলি
নীরবে বিষপান করে
অমৃতের সুধায় রাখি।।
আমি জননী, দিদি, বোন
সম্মোধনের নানা সাজে
সগর্বে স্নেহ, শাসনের আধারে
আমি নারী, গর্বিত নারী।।
