ওষুধের দাম ক্রমবর্ধমান, নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার:- এই মুহূর্তে সুগার, রক্তচাপ, কলোস্টেরল, থাইরয়েড ইত্যাদি সহ বেশ কয়েকটি রোগ দেশের একটা বড় অংশের মানুষের সঙ্গে ওতোপতোভাবে জড়িয়ে গেছে। এর সঙ্গে সাধারণ জ্বর, ঠান্ডা লাগা, পেটের গণ্ডগোল ইত্যাদি তো আছেই। আছে বেশ কয়েকটি মারণঘাতি রোগ। এদের হাত থেকে বাঁচার জন্য ওষুধ হয়ে উঠেছে মানুষের নিত্যসঙ্গী। গত কয়েকবছর ধরে জিএসটির হাত ধরে ক্রমাগত এইসব নিত্য প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম বেড়েই চলেছে। আপাতত কমার কোনো লক্ষণ নাই। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ওষুধ মূল‌্য নির্ধারণকারী সংস্থা ন‌্যাশনাল ফার্মাসিউটিক‌্যাল প্রাইসিং অথোরিটি (এনপিপিএ) পক্ষ থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকেই সাধারণ কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় ওষুধ থেকে শুরু করে অতি প্রয়োজনীয় অ‌্যান্টিবায়োটিক, পেইনকিলার, প‌্যারাসিটামল, অ‌্যাজিথ্রোমাইসিন সহ বেশ কিছু স্টেরয়েড, ভিটামিন, মিনারেল জাতীয় ওষুধ সহ প্রায় ৮০০টি ওষুধের দাম বাড়তে চলেছে। এই বৃদ্ধি ১০℅ বা তার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। জরুরি ওষুধের তালিকায় থাকা ওষুধের দাম ০.৫৫ % বৃদ্ধি হতে চলেছে।

ওষুধ সংক্রান্ত সরকারের বেশ কয়েকটি ভুল নীতি এই দাম বৃদ্ধিকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছে। সরকার সোনার উপর জিএসটি নিচ্ছে ৩℅, অন্যদিকে মানুষের জীবনদায়ী ওষুধের উপর নিচ্ছে ১২ ℅ থেকে১৮%।আমাদের দেশ ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ৯০℅ বিদেশ থেকে সস্তায় আমদানি করত। কিন্তু কোভিডের পর সেই নীতির পরিবর্তন হয়। ফলে ওষুধের দাম বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।সাধারণত প্রতিবার লোকসভা ভোটের পর দাম বৃদ্ধি হয়। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের খরচ ব্যবসাদারদের কাছ থেকে আদায় করে। বিনিময়ে ব্যবসাদাররা জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করে সেই খরচ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করে। অর্থাৎ ঘুরপথে রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের খরচ সাধারণ মানুষের কাছেই আদায় করে। সেইদিক বিচার করলে এই দাম বৃদ্ধি কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। নির্বাচনী বণ্ড সামনে আসার পর দেখা যাচ্ছে ওষুধের এই দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক নয় বাধ্যতামূলক ছিল। প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ফাণ্ডে ওষুধ কোম্পানিগুলো চাঁদা দিয়েছে। ফলে শাসকদল যেমন দাম কমাতে পারবেনা তেমনি বিরোধীদলগুলো প্রতিবাদ করতে পারবেনা। সাধারণ মানুষের সমস্ত কিছু অসহায়ভাবে মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই। একে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। তার উপর এই ওষুধের দাম বৃদ্ধি- কার্যত 'মড়ার উপর খাড়ার ঘা'। যেসব প্রবীণ ব্যক্তিরা কেবলমাত্র বয়স্ক ভাতার উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। বেঁচে থাকাটাই তখন কষ্টকর হবে। রাজনৈতিক দলগুলো কি এরপরও বলবে - আমরা জনগণের স্বার্থে কাজ করি!

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *