সংরক্ষণ

সুমিতা সিনহা (দুর্গাপুর)

   সারাদিন টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছিলই। সন্ধ্যার পর বিশাল আকার ধারণ করে। একেবারে শ্রাবণের বাদল ধারাপাত বলতে যা বোঝায় তাই। তারই মধ্যে চাকরির জন্য একটা ইন্টারভিউ দিয়ে ফিরছি আমি সন্দীপন চক্রবর্তী। কোম্পানির প্রধান শর্ত অভিজ্ঞতা আর আমার দরকার অভিজ্ঞতার জন্য চাকরি। সরকারি চাকরিতে এখন শুধুই সংরক্ষণের রমরমা। যদিও বা বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেড়ে সেটাও ওই গান্ধী ছাপের জন্য। অগত্যা ভরসা আমার মতো মাস্টার্স করা ছেলের ওই প্রাইভেট জব। মোদ্দা কথাটা হলো এটাই বেকারত্বের দুষ্ট চক্র । সরকার যায় সরকার আসে। প্রতিশ্রুতির বহর বয়ে যায় তবুও বেকারত্বের জ্বালা ঘোচে না।

   ঘরে বসে থাকলে বাবা বলে "নিষ্কর্মার ঢেকি"। আর বাড়ির বাইরে বেশি সময় কাটালে মা চোখের জল লুকিয়ে রেখে অভিযোগ তোলে "সারাদিন শুধু বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়াস কেন?" এড়িয়ে চলি প্রেমিকার ফোন। ফোন ধরলেই উদ্বিগ্ন গলায় শোনায় "কবে আসবে বাবা মা কে নিয়ে আমাদের বাড়িতে"। ফলস্বরূপ এখন আমি এই খতরনাক মুহূর্তগুলো এড়িয়ে চলি। 

শেষ মুহূর্তে ট্রেন যাতে মিস না করি তার জন্য জেনারেলের টিকিট নিয়ে সংরক্ষণ কামরায় উঠলে টিটিও জিজ্ঞেস করে সংরক্ষণ করা আছে কিনা। শালা! এখানেও সংরক্ষণ! মানে সর্বত্রই শুধু সংরক্ষণ আর সংরক্ষণ। তাহলে জেনারেল রা যাবে কোথায়? বড়ো রাস্তার মোড়ে পথ অবরোধ। বিষয়টা কি জানার জন্য বাসের জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখি প্রবল বৃষ্টিপাতের মধ্যেই কিছু মানুষের প্রতিবাদী সমাবেশ। শ্লোগান উঠেছে আমাদেরও সংরক্ষণ দরকার। কি ভেবে আমিও নেমে এলাম পথে। বাড়ির পথে রওনা না হয়ে ওদের সাথেই গলা মেলালাম “আমাদেরও সংরক্ষণ চায় “।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *