কবিতা ✍ Final Exposer

মরণদশা

মরণদশা

নীহার চক্রবর্তী (বেথুয়াডহরি, নদীয়া)

মধ্যবয়সী মানুষ। বৈষ্ণব। কপালে তিলক কাটে।
পথে আমাকে দেখলেই মধুরসুরে 'জয় নিতাই' বলে ওঠে।
আমি ধর্মপথের মানুষ কোনদিনই ছিলাম না। পরেও থাকব না আশা করি।
যাক, সে প্রসঙ্গ ভিন্ন।
আমি বিনয়ের সুরে 'জয় নিতাই' বলে উত্তর দিই।
কিন্তু, কিন্তু, কিন্তু…
এই কয়েকদিন আগে কয়েকজনের মুখে শুনলাম লোকটা বাড়ির বাইরে মধুরভাব দেখালেও বাড়িতে মহা অত্যাচারী। শুধু বৌ-সন্তান নয়, আত্মীয়-পরিজন, পাড়ার অনেকেই তাকে পছন্দ করে না। একটা সময় তার চরিত্রে কিছু চুলবুলে দিক ছিল। সে থাক। হতেই পারে। প্রেমভাবের জীবন। একটু এদিক-ওদিক হয়।
কিন্তু অন্যান্য কিছু বিষয় ভাল লাগল না শুনে। জমি-সম্পত্তির ব্যাপারে ভাই-বোনকে ঠকিয়েছে, বাবা-মাকে দেখেনি, মাঝে সুদের ব্যবসাও নাকি করেছিল ইত্যাদি ইত্যাদি…
শুনে মনে খুব রাগ পুষতে থাকলাম।
আজ সকালে সে সেই মধুর আবেশে 'জয় নিতাই' বলতেই আমি বেশ গর্জিয়ে বলে উঠলাম 'জয় নিতাই'।
সে তো শুনে অবাক। বেশ থতমত খেয়ে গেল।
চুপ থেকে-থেকে সে শেষে আমতিয়ে আমতিয়ে জিজ্ঞেস করল, 'কী হল ব্যাপারটা?'
আমি মুচকি-হেসে উত্তর দিলাম, 'আপনার নিতাইপ্রভু সব জেনে গেছেন। উনি জেনে ভীষণ রাগ করেছেন। তাঁর রাগের প্রকাশ আর কি। আর 'জয় নিতাই' বলার দরকার নেই আপনার। এরপর কিন্তু উনি আরও রেগে যাবেন।'
বলেই আমি ধা…
পরে এক বন্ধুর দোকানে বসে চা খেতে-খেতে খুব হাসলাম।
বন্ধু আমার মুখে ঘটনা শুনে বেশ ঘৃণার সুরে বলল, 'বৈষ্ণব না হাতি। শয়তানের শিরোমণি।'

F

Final Exposer

Final Exposer এর রিপোর্টার