কবিতা ✍ Final Exposer

রাবণ কথন: সত্যযুগ আর কলিযুগ

রাবণ কথন: সত্যযুগ আর কলিযুগ

সৌরভ দেব (কলকাতা)

(১)

আমি লঙ্কাধিপতি, দানবেশ্বর মহাজ্ঞানী রাবণ,
অপরাজেয় বীর, আমি রণক্ষেত্রে অমর, মৃত্যুর যম|

শিবপূজারি মহাযোদ্ধা, ত্রিলোক জয়ী বেদজ্ঞানী,
কম্পিত সকল দেবতা, অস্ত্র ফেলি সম্মুখ মোর নাম শুনি।

উত্থিত করি মহাবাহু, তুলি মহাদেব সহিত কৈলাশ,
স্তোত গাহিনু শিব চরণে, নাম দিলেন রাবণ সাথে চন্দ্রহাস|

করতলে মহাশক্তি- দশ মস্তক লহি করি স্বর্গরাজ্য আক্রমণ,
বজ্র হস্তে দেবরাজ পরাজয় স্বিকারী , বিরাজিলাম স্বর্গ সিংহাসন|

নবগ্রহের শক্তি ভয়াল, সব ভয়ভীতি করে যজ্ঞ, পাঠ ও দান!
করিনু জয় তাহাদিগের - দিয়াছি লঙ্কাপুরীতে বন্ধক স্থান।

অহংকারী আমি দগ্ধ, ধর্ম জ্ঞান সমৃদ্ধ লঙ্কা গরিণু,
নিজ ভগিনী সম্মান রক্ষার্থে ছল সহিত বনবাসীর স্ত্রী হরিনু।

সহস্র দোষ মোর, তবু সীতার সতীত্ব রাখি অটুট,
মৃত্যু দাতারে হারিতে ভ্রাতা রহস্য করিল ভেদ, বোধিল ঈশ্বর ধরিয়া মানবরূপ।

        (২)

আজি কলিযুগ, ধর্ম লুপ্তপ্রায়, আমার অপরাধ নীতি নতুন,
সীতা হরণ ছলবেশে আর চলিয়াছে স্পর্শ ইচ্ছা বিরুধ|

কোথা রাম, কোথা ইন্দ্র, কোথা আজি সকল দেবগন?
আমি যদি অধর্মী , তবু কেনো দেখি চতুর্দিক অভিশপ্ত রাবণ!

পিশাচ আজি মানব বেশে লোভে ক্রোধে নিমগ্ন, হৃদে জ্বলন্ত অন্ধকার,
ইতিহাসে আমি পাষন্ড, অধার্মিক ! তব কলির নর রাবণ হইতে ভয়ংকর!

সেদিন জনকযায়া লাঞ্ছিত হইল মোর রাজ্য ভূমে,
আজি নারীগণ কাঁদে রাত্রে, নির্যাতিতা অগ্নিস্নান চুমে।

প্রতি শরৎ আসি, দেখিতে পাই আনন্দ সহিত মম মূর্তি দহন,
কেমনে করিবে বধ তাহারে, অন্তরে যে সুরক্ষিত রাবণ?

নাহি মিটিবে আঁধার - অপরাধ পরবর্তী সমাজে মোমবাতি জ্বালনায়,
লঙ্কা উঠিবে জাগিয়া, ফিরিবে রাবণ বারংবার সত্য দহনের বাসনায়।

জাগিয়া ওঠো মানব , অপেক্ষারত কেনো নব অবতারণার,
সত্য নীতি ধর্ম করি গ্রহণ - রচ নবসমাজ, জয়ী হোক মানবতার।

F

Final Exposer

Final Exposer এর রিপোর্টার