কবিতা ✍ Final Exposer

সভ্যতার উপাখ্যান

সভ্যতার উপাখ্যান

রাই প্রিয়া (ক্যানিং)

অলক্ষ্য নক্ষত্রের মতো ম্রিয়মাণ মানবিকতার আলোকমালা,
নগরীর নিয়ন-আলোয় আজ বিবেক যেন নির্বাসিত এক তপস্বী।
অভিলাষের অগ্নিগর্ভ লোভে আমরা নির্মাণ করি কংক্রিট সাম্রাজ্য,
তবু অন্তঃস্থ শূন্যতার গহ্বরে প্রতিধ্বনিত অদৃশ্য হাহাকার দিবানিশি।

সময়ের এই ক্যালেন্ডারে জমে ওঠে অসংখ্য অনুলিখিত পাপ,
অবচেতনের আর্কাইভে সঞ্চিত যত অবদমিত অনুতাপ।
আমরা ইতিহাসের প্রান্তরে লিখি উন্নতির দীপ্ত উপাখ্যান,
তথাপি অন্তরালে জমে ওঠে অবক্ষয়ের উপমহাদেশ, মানবতার হয় বলিদান ।

শিশুর চোখে ছিল যে নক্ষত্রমালা স্বপ্নের উজ্জ্বল জ্যোতির্বৃত্ত,
সেই দীপ্তিময় কক্ষপথ আজ গ্রাস করে ক্ষমতালোভীর নির্মম মাধ্যাকর্ষণ।
শিক্ষা হয়ে ওঠে কেবল সার্টিফিকেটের নিষ্প্রাণ প্রত্নবস্তু, কখনো অহংকার,
জ্ঞান হারায় তার প্রজ্ঞাময় দীপ্তি, হয়ে ওঠে কুৎসিত কদাকার।

সভ্যতার মহাকাব্যে আমরা কেবল চরিত্রের মুখোশ পরিহিত,
নৈতিকতার স্তম্ভ ভেঙে পড়ে গড়ে ধ্বংসস্তূপের স্থাপত্য।
মানবতার ভগ্ন মন্দিরে ধূপের ধোঁয়া আজ ক্ষীণ, প্রায় নির্বাপিত,
আর দেবতার আসনে অধিষ্ঠিত আসুরিক বর্বরতার ছায়া ক্রমাগত দীর্ঘায়িত।

তথাপি এই অস্তরাগের অন্তরালে লুকিয়ে থাকে সম্ভাবনার দীপ্ত উষা,
যদি কোনো প্রাজ্ঞ মন জাগায় বিবেকের সুপ্ত অনুরণন,
যদি কোনো তরুণ হৃদয় ভেঙে দেয় অবক্ষয়ের অন্ধ প্রাচীর,
তবে ধ্বংসস্তূপের অন্তরালেই জন্ম নেবে নব সম্ভাবনার আলোকরেখা—
যেখানে অরুণোদয়ের মতো জেগে উঠবে মানবতার নির্মল প্রত্যয়।

শুধু দরকার আত্মদীপ জ্বালাবার সামান্য সাহস—
তাহলেই ধূসর এই সভ্যতার বুক চিরে আবার ফুটবে মানবতার নীলকমল..।।

F

Final Exposer

Final Exposer এর রিপোর্টার