একাধিক দপ্তরের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী 

একাধিক দপ্তরের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী 

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, ফাইনাল এক্সপোজার -:

      নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একযোগে একাধিক সরকারি কমিটি ও বোর্ডের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘটনাটি রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নবান্নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এটি একটি সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যা নির্বাচনের আগে প্রথাগতভাবেই হয়ে থাকে। তবে এই সিদ্ধান্তের সময় এবং ব্যাপ্তি বিশ্লেষণ করলে এর গভীরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও কৌশলগত দিক উঠে আসে।

       প্রথমত, এই পদক্ষেপের নেপথ্যে ‘আদর্শ আচরণবিধি’র একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা যখন দলীয় প্রচার বা নির্বাচনে সরাসরি অংশ নেন তখন সরকারি কোনো লাভজনক পদ বা প্রশাসনিক কমিটির মাথায় থাকা অনেক সময় আইনি বা নৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে লাভজনক পদ সংক্রান্ত বিতর্ক এড়াতে এবং নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যে নিজেকে স্বচ্ছ রাখতে এই ধরনের ইস্তফা অত্যন্ত কার্যকর।

      দ্বিতীয়ত, নবান্ন থেকে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্য, বন, তথ্য ও সংস্কৃতি থেকে শুরু করে ভূমি ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের একাধিক কমিটির শীর্ষপদে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৫ শে মার্চের মধ্যে এই ইস্তফা গ্রহণের রিপোর্ট জমা দেওয়ার যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট করে যে সরকার এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত এবং সুশৃঙ্খলভাবে শেষ করতে চাইছে। কোনো বিশেষ পদ বা কমিটির সিদ্ধান্ত যাতে ভোটের সময় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে না আসে সেটি নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রাথমিক লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

      তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এই সিদ্ধান্তটি মুখ্যমন্ত্রীর একটি কৌশলী পদক্ষেপ হতে পারে। নির্বাচনের ময়দানে যখন তিনি পুরোদমে নামবেন তখন বিরোধী পক্ষ যাতে সরকারি পদের অপব্যবহার বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর কোনো অভিযোগ তোলার সুযোগ না পায় সেই পথটি তিনি আগেভাগেই বন্ধ করে দিলেন। এটি জনমানসে একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও সাহায্য করে যা নির্বাচনের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

   সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদত্যাগ একদিকে যেমন প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা ও আইনি জটিলতা এড়ানোর একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, অন্যদিকে এটি নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দলীয় রাজনীতির আঙিনায় নিয়ে আসার একটি রাজনৈতিক প্রস্তুতিও বটে। প্রশাসনের এই তৎপড়তা প্রমাণ করে যে আসন্ন ভোটের লড়াইয়ে কোনো রকম ফাঁকফোকর রাখতে নারাজ রাজ্য সরকার।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *