বাইজিদ মন্ডল, দক্ষিন চব্বিশ পরগনা:- বাংলা নববর্ষ কেবল প্রথম দিন অর্থাৎ ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তন নয়,এটি বাঙালির এক গভীর আবেগের নাম পয়লা বৈশাখ। বাঙালির জীবনে এই দিনটি শুধু নতুন বছরের সূচনাই নয়, বরং আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। আর এই বিশেষ দিনকেই হাতিয়ার করে অর্থাৎ এই আবেগকে সঙ্গী করে ভোটের ময়দানে নতুন এক সমীকরণ তৈরি করে অভিনব প্রচারের নজির গড়লেন মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের তরুণ প্রার্থী শামীম আহমেদ।রাজনৈতিক প্রচারের প্রচলিত ধারা থেকে সরে এসে তিনি বেছে নিলেন বাংলার মাটি ও মানুষের আত্মার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাউল গানের পথ।এদিন সকাল থেকেই মগরাহাট পশ্চিমে একতারা অঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় এক অন্যরকম দৃশ্য,তিনি বাঙালি পোশাক পরে রেলি করে ঘুরতে। ঢাক- ঢল করতালের তালে, একতারা হাতে বাউল শিল্পীরা গাইছেন বাংলার মাটির গান। আর সেই সুরের মূর্ছনায় ভেসে যাচ্ছেন এলাকার মানুষজন। এই সাংস্কৃতিক আবহেই জনসংযোগে বেরিয়ে পড়েন তৃণমূল প্রার্থী শামীম আহমেদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাউল সম্প্রদায়ের একাধিক শিল্পী, যাঁরা গানের মাধ্যমে তুলে ধরেন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা। প্রচারের এই অভিনব রূপ নিয়ে শামীম আহমেদ বলেন, “বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখেই আমরা এই প্রচারের পরিকল্পনা করেছি। বাউল সম্প্রদায়ের শিল্পীরাই আমাদের কাছে এসে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যে তাঁরা প্রচারে সামিল হতে চান। আমরা তাঁদের সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে এই উদ্যোগ নিয়েছি। শামীম আহমেদ তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “রাজ্য সরকার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মাধ্যমে বাউল সম্প্রদায়ের শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্র সরকারের তরফে এই শিল্পীদের জন্য তেমন কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না। বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে রাজ্য সরকারই এগিয়ে এসেছে। আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ভোটে জয়লাভ করা নয়, বরং বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সুরক্ষিত রাখা। বাউল গান শুধু বিনোদন নয়, এর মধ্যে রয়েছে সমাজ ও জীবনের গভীর বার্তা। তাই আমরা চাইছিলাম মানুষের কাছে পৌঁছতে এই সাংস্কৃতিক মাধ্যমকে ব্যবহার করতে। এদিনের প্রচারে শুধু বাউল শিল্পীরাই নন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষক, ছাত্র,যুবক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা সকলে মিলে এই সাংস্কৃতিক প্রচারকে এক অন্য মাত্রা দেন। রাজনৈতিক প্রচারের মঞ্চ যেন পরিণত হয় এক উৎসবের অঙ্গনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সাংস্কৃতিক প্রচার সাধারণ মানুষের মনে আলাদা প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বাউল গান মানুষের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে এই প্রচার কৌশল ভোটের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে, তবে ইতিমধ্যেই এটি মানুষের নজর কেড়েছে।

Posted inজেলার আপডেট বিধানসভা ভোট
