হৃদবসন্তপুরে

নীহার চক্রবর্তী (নদীয়া)

শীতের পোশাকগুলো এখনও চোখের সামনে বিরাজ করছে। কয়েকদিন ধরে পল্লব ব্যাপারটা লক্ষ্য করছে৷ ওর মোটেও ভাল লাগছে না।
কাল সকালে পল্লব ওর বৌ রিয়াকে মুচকি-হেসে বলে, ‘ফেব্রুয়ারি অব্দি ঠিক ছিল। মার্চ গিয়ে এপ্রিলে পড়ল। এপ্রিলের আজ পনেরো তারিখ। তার মানে মে আসতে আর দেরি নেই। এখনও শীতের পোশাক বাইরে থেকে গেলো? চোখের সামনে থেকে সরবে কবে?”
পল্লবের কথা শুনে মুখভার করে রিয়া উত্তর দিল, ‘সে তোমাকে দেখতে হবে না। সময় হলেই উঠে যাবে সব। নাহলে তুমিই…’
রিয়া একথা বলার সাথে-সাথে পল্লব একগাল হাসি ছড়িয়ে কাজে লেগে পড়ল।
কিন্তু রিয়ার সইল না।
ওর হাত থেকে একটা চাদর কেড়ে নিয়ে বলল, ‘এ তোমার কম্ম নয় গো৷ একেবারে ছ্যাড়াব্যাড়া করে ফেলবে৷ আমি মাছটা কেটেই আসছি৷ বাপরে! তর আর সয় না দেখছি।’
রিয়া তো বলে চলে গেলো।
এদিকে পল্লব টুকটাক করে শীতের চাদরগুলো গোছাতে থাকল।
পাশের বাড়ির দক্ষিণ জানলা খোলা ছিল। পলিবৌদি চুল আঁচড়াচ্ছিল তখন।
সে জানলা থেকে ফিক করে হেসে বলে বসল, ‘শীতটা তবে এবার বেশ দেরি করে গেলো, ঠাকুরপো।’
পল্লব শুনে ভয়ে বা লজ্জায় জিভ কাটল।
নিচুস্বরে তাকে বলল, ‘এ নিয়ে একান্তে বলা যাবে। এখন চুপ…’
খিলখিল করে হেসে লজ্জা-রাঙা মুখ নিয়ে পলিবৌদি সেখান থেকে দ্রুত সরে পড়ল।
হঠাৎ ওপর থেকে রিয়ার বেশ জোরালো হাঁক, ‘একটু ওপরে এসো তো…’
একরকম জড়োসড়ো হয়ে পল্লব সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল।
মনে-মনে ও বলল, কিছু শুনেছে নাকি? সব্ব করেছে নাশ!

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *