ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি:- উত্তরবঙ্গের শিক্ষা ও প্রযুক্তির মানচিত্রে নতুন উজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা। একই মঞ্চে আধুনিক প্রযুক্তির পরিকাঠামো, শিল্পসংযোগের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং আবেগঘন প্রাক্তনী পুনর্মিলনের মিলিত আবহ। যা কার্যত শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি -এর অগ্রযাত্রায় এক নতুন গতি সঞ্চার করল। এই বহুমাত্রিক উদ্যোগকে সামনে রেখেই শিলিগুড়িতে উপস্থিত হলেন টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শ্রীসত্যম রায়চৌধুরী।
শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্বেই স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে টয়োটা-কিলোস্কার-এর সহযোগিতায় আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর কারিগরি শিক্ষাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড-ইলেকট্রিক যান প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা। এদিন সেই “টয়োটা-কিলোস্কার ইলেকট্রিক ভেহিকেল ওয়ার্কশপ”-এর পরিদর্শন করেন শ্রীসত্যম রায়চৌধুরী। এরই পাশাপাশি সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্স কম্পিউটিং (সি-ডিএসি)-এর সহায়তায় নির্মিত থ্রি-ডি টেকনোলজি ও অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং ভবনেরও দ্বারোদ্ঘাটন করা হয়। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। একই দিনে হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারিং টেকনোলজি বিভাগের নতুন ভবনেরও উদ্বোধন হয়।
তবে দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল প্রাক্তনীদের পুনর্মিলন অনুষ্ঠান। গত ৪ এপ্রিল ব্যাঙ্গালোরে যার সূচনা হয়, পরবর্তীকালে ১৮ এপ্রিল কলকাতাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ১০ মে শিলিগুড়িতে তার সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠানে প্রাক্তনীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং গণভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন, বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
এই প্রসঙ্গে মহাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বর্তমান সময়ে শুধু প্রথাগত শিক্ষাই নয়, শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই একদিকে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ল্যাব ও কর্মশালা গড়ে তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাক্তনীদের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও মজবুত করা হচ্ছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা পেতে পারে।
তাঁদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি গড়ে ওঠে চারটি স্তম্ভের উপর — বর্তমান ছাত্রছাত্রী, পরিচালন পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রাক্তনী। এই চারটি স্তম্ভ একসঙ্গে কাজ করলেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, প্রাক্তনীদের একাংশ জানান, আবার কলেজে ফিরে আসা এবং পুরনো ক্লাসরুমে স্মৃতিচারণ এক অনন্য আবেগের অভিজ্ঞতা, যা তাদের জীবনের অন্যতম মূল্যবান মুহূর্ত হয়ে থাকবে।




