শিবানী চক্রবর্তী (হুগলী)

বয়স আর কত ১৩ কি ১৪,
ফ্রক পড়া স্কুলে পড়াশোনা।
গ্রামের পথ প্রায় দু তিন কিলোমিটার হবে, পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে, প্রাথমিক স্কুলে পড়াশোনা , বৃত্তি দেওয়ার
পর, হাই স্কুলে ভর্তি হয়,
৮ ক্লাস পাস করার পর ক্লাস নাইন থেকে শাড়ি পরে স্কুলে যাওয়া শুরু হল।
বেশ স্কুল জীবন, বন্ধু-বান্ধব, পড়াশোনা, জীবনটা ছিল এক রকম, তখনকার আমলে মেয়েদের বেশি বড় হওয়া মানেই বাবা-মার চিন্তা,
বিশেষ করে গ্রামে।
হঠাৎ তার জীবনে এলো কোন অজানা অচেনা এক জীবন সাথী। তাকে বাঁধা পড়তে হলো দ্বিতীয় অধ্যায়ের বন্ধনে।।
শশুর বাড়ি গ্রামে পরান বন্ধু থাকেন শহরে চাকরি সূত্রে।
বিয়ের পর বেশ কিছুদিন দেশের বাড়িতে। তখন ফোনের চলছিল না বয়স সবে ১৪ থেকে ১৫ হবে বানিবালার।।
চাকরির স্থলে নিয়ে যাওয়ার মত উপায় ছিল না। মাঝে মাঝে আসা যাওয়া
করতেন।।
সবকিছু চিঠি মারফত ,চিঠিতেই মধুর অনুভূতির আকর্ষণ।
যখন ডাক পিয়ন চিঠি নিয়ে আসতেন, তখন এই ছোট্ট , মেয়ে বাণীবালা, শাড়ি পরা নূপুর পায়ে নাকে নোলক পরা ,পিঠ ভরা উথালি কেশ, আবেগ উচ্ছ্বাসে ছুটতে ছুটতে গিয়ে পিয়নের কাছে চিঠিটি নিয়ে আসতো।
নীল খামে ভরা চিঠি, আবেগ ভরা খুশিতে পড়তো, এবং অনুভব করতো। নিজেও উত্তরে বিরহ বেদনার কথা প্রকাশ করত। যখন ডাক পিয়ন আসতো তখন সাইকেলের বেল বাজাতো, এবং ডাকতো কোথায় রে বাণীমা? তোর চিঠি। একদিন ডাক পিয়ন অন্যের চিঠি দেওয়ার জন্য সাইকেলের বেল বাজাচ্ছে, বাণী ছুটে গিয়ে আবেগ বসত জেঠু চিঠি আছে আমার?
জিজ্ঞাসা করে , পিয়োন বলে নারে বাণী মা আজ তোর চিঠি নেই। বলার সাথে সাথে যেন মনে হল পায়ের তলার মাটিটা সরে গেল। এই যে একটা চিঠিতে প্রেম বিরহের অনুভূতি, না দেখার আকর্ষণ,
এটাই মনে হয়, না দেখা, না কাছে পাওয়ার মধুর প্রাপ্তি।
এই আকর্ষণ আগামী মিলনের প্রতীক্ষা তাকে দিয়েছে সফলতা। তার পরান বন্ধু শহরে নিয়ে দিব্যি সুখে সংসার করেছে। বানিবালার জীবনে ঘটেছে অনেক সংগ্রাম, সে জিতে এসেছে।।
এখনো ছেলেমেয়েদের নিয়ে , সংসারের বন্ধনে আবদ্ধ, ।
এখনো হয়তো বাণী বালা জীবনে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে,
তার জীবন থেকে
চলে গেছে তার পরান বন্ধু,
এখন সে তার ডাকের প্রতীক্ষায়।
তবে,
শেষ জীবনের এক বন্ধুত্বের বন্ধনে (টাচ ফোন) যে কটা দিন,
বেঁচে থাকার উৎস প্রেরণা দেখিয়েছে তাকে আশার আলো।
