
ফ্ল্যাটবাসিদের নিয়ে এই প্রথম বৈঠকে বসলেন বিধায়ক:: রূপনারায়ণপুরে শুরু হল নতুন অধ্যায়
সন্তোষ মন্ডল, সালানপুর:-আমার একটা শহর আছে, তার নাম রূপনারায়ণপুর – এভাবেই কথা শুরু করলেন বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়। ফলে বেলা বারোটায় ডাকা সভা যখন দুপুর দুটোর সময় শুরু হল তখন উপস্থিত মানুষজনের মুখে বিরক্তির বদলে ফুটে উঠল হাসি। রূপনারায়ণপুরের প্রায় আশিটি বহুতল আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে এই প্রথম আলাদা করে বৈঠকে বসলেন শ্রী উপাধ্যায়। তিনি বললেন সার্বিক যেসব সমস্যা ফ্ল্যাটবাসিরা ভোগ করছেন সেগুলি কি করে দূর করা যায় সেই চেষ্টাতেই তার এই উদ্যোগ। বিধান বাবু বলেন রূপনারায়ণপুরের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনোভাবেই রাজনৈতিক নয়, এটি একান্তই পারিবারিক সম্বন্ধের মত। সেই সম্পর্কের দাবি নিয়েই তিনি বলেন রূপনারায়ণপুরের আশীর্বাদের হাত তার উপরে যেন আরো দীর্ঘ হয়। এদিন সকাল থেকে সালানপুর ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সাতটি রাস্তার নির্মাণ কাজের সূচনা করার পর নান্দনিক হলে তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন। তার আগে এই বৈঠকের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান। শ্রী আরমান বলেন তারা চেষ্টা করছেন মানুষের যাবতীয় অসুবিধা দূর করার, কিন্তু সবটাই যে হচ্ছে এমন দাবি তারা করেন না। যেমন জল সরবরাহ, রূপনারায়ণপুরে একটি বড় নার্সিংহোম স্থাপন, রাস্তা, আলো ইত্যাদির বন্দোবস্ত তারা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ঘরে ঘরে জল পৌঁছানোর কাজ থমকে গেছে কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের জন্য টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন রাজ্য সরকার চেষ্টা করছে আসন্ন গ্রীষ্মের আগেই এই অঞ্চলের জল সমস্যা সমাধানের।
বিধায়কের কাছে বিভিন্ন আবাসনের বাসিন্দারা বলেন ফ্ল্যাট বিক্রির সময় প্রোমোটাররা যেসব প্রতিশ্রুতি দেন পরবর্তী সময়ে তার অনেক কিছুই পালন করেন না। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপও করে না। এছাড়াও কোথাও ফ্ল্যাটের নিজস্ব ট্রান্সফর্মার না থাকা, মিউটেশন না হওয়া, নর্দমার ব্যবস্থা, আলো, গাছ ছাঁটাইয়ের আবেদন জানানো হয়। প্রত্যেকের কথা ধৈর্য ধরে বিধায়ক শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেন বৈঠকে থাকা তৃণমূল নেতা ভোলা সিং এবং মহম্মদ আরমানকে। সমস্ত আবেদন পরামর্শ লিপিবদ্ধ করে নেন বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষক নেতা অর্ধেন্দু রায়। পরে বিধায়ক জানান আবাসনগুলির প্রয়োজন মেটানোর জন্য তারা একটি পৃথক কমিটি গঠন করছেন। সেই কমিটি ফ্লাটগুলির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। এদিন বৈঠকের মধ্যেই ভোলা সিং ৯৯৩৩৮১৮৩৯৯ মোবাইল নম্বরটি সকলের উদ্দেশ্যে জানিয়ে বলেন, যে কোন ফ্ল্যাটের আশেপাশে গাছ ছাঁটাই কিংবা আলোর ব্যবস্থা বা নর্দমা সাফাইয়ের জন্য এই নম্বরে ফোন করলেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এরই সঙ্গে জানানো হয় যে প্রায় সমস্ত ফ্ল্যাটেই বয়স্ক ব্যক্তিরা বসবাস করছেন, তাদের রাতবিরেতে যে কোনো সময় চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলে নির্দ্বিধায় যেন ওই নম্বরে ফোন করা হয়। এছাড়াও গরমের সময় শুধুমাত্র ফ্ল্যাট গুলিতে জল পৌঁছানোর জন্য একটি ট্যাঙ্কার রাখা হবে যেটি পর্যায়ক্রমে ফ্ল্যাট গুলিতেই জল সরবরাহ করবে বলে জানানো হয়। আসানসোলের পরে এই মহকুমায় এত সংখ্যক ফ্ল্যাট আর কোন এলাকায় নেই জানিয়ে বিধায়ক বলেন তিনি চেষ্টা করছেন রূপনারায়ণপুরে একটি দমকল কেন্দ্র স্থাপনের। এজন্য একসময় রূপনারায়ণপুর আইটিআই চত্বরে জমিও চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগ থেমে গেছে। এবার প্রায় ১০০ ছুঁতে চলা আবাসনের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থাকে মজবুত করতে অবিলম্বে দমকল কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
শুধুমাত্র আবাসনের বাসিন্দাদের নিয়ে এই ধরনের বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ায় বিধায়ক ও সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতাদের প্রশংসা করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। এদিন সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র সহ পঞ্চায়েত গুলির প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


