অষ্টমীর জীবন

বাপি কর্মকার (লোকপাড়া বীরভূম)

দুর্গা মায়ের মর্তে আগমনের সময় চার দিনের অতি গুরুত্বপূর্ণ পুজো অষ্টমী। অষ্টমীর দিনে জন্মগ্রহণ করেছে মেয়েটি তাই নাম রাখা হয়েছে অষ্টমী। পিতা বিজয় লাল ও মাতা সরস্বতী দেবী। অষ্টমীর বয়স যখন তিন মাস তখন তার পিতার মৃত্যু ঘটে। বাবার সঙ্গে তেমনভাবে পরিচয় ঘটেনি। মাতার কপালের সিন্দুর মুছে গেল। সরস্বতী দেবীর বেঁচে থাকা শুরু হলো মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে দিন মাস বছর পেরোয় ধীরে ধীরে অষ্টমী বিবাহযোগ্যা হয়ে উঠলো আর্থিক অসুবিধার জন্য পড়াশোনা আর করা হয়নি।

একদিন অষ্টমীর বিবাহের প্রস্তাব আসে পাত্র ধনপতি কর্মকার। সরস্বতী দেবীর সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের চার হাত এক হলো। অষ্টমীর শুরু পতির ঘর যাত্রা। সরস্বতী দেবী শ্বেত  বস্ত্রে  বিদায় দিয়ে বাড়ি ফিরলো।

 অষ্টমীর শশুর বাড়ির তেমন স্বচ্ছল অবস্থা ছিল  না হাতুড়ি নেহাই ওদের মুখে অন্ন তুলে দিতো। অষ্টমীর মেজো জা অষ্টমীর পাশে থাকলেও বড় জায়ের অত্যাচার দিন দিন বেড়ে চলেছিল। সমস্ত দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে দিনযাপন করতো অষ্টমী। ধনপতি কর্মকার যা রোজগার করতো তাতে সংসার ঠিকমতো চলতো না। সংসার চালানো জন্য টাকার ঘাটতি পড়ে যেত। তাই সংসারের হাল ধরতে অষ্টমী পরের বাড়ি  কাজ শুরু করলো। অষ্টমীর দুই সন্তান একটি মেয়ে অন্যটি ছেলে। অষ্টমীর কন্যা শকুন্তলার বিবাহের সময় হয়ে এসেছে তাই চিন্তার ভাঁজ অষ্টমীর কপালে। কিছু জমি ছিল সেটা বিক্রি করে কন্যাকে বিবাহ দিলো। কিছু বছর কেটে যাওয়ার পর অষ্টমী তার ছেলের বিবাহ দিয়ে দিলেন।

  হঠাৎ ধনপতি একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে আর আগের মতো  সুস্থ হয়ে উঠল না। অষ্টমী তার  স্বামীকে নিয়ে বারে বারে ছোটে হাসপাতালে।এইভাবেই কিছুদিন কেটে গেল। একদিন হাসপাতাল থেকে বাড়ি এলো তার দুদিনের মধ্যেই তার স্বামী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। অষ্টমী শোকে ভেঙে পরে। অষ্টমীর ছেলের এক ছেলে ও এক মেয়ে। অষ্টমীর নাতনির বয়স যখন সবে পনেরো  তখন  সর্পাঘাতে মৃত্যু ঘটে। স্বামীর শোক ও নাতনির শোক অষ্টমীকে পাথর করে তোলে। সংসার ভার বহন করতে সব দুঃখ  ভুলে অষ্টমী চলে পরের বাড়ি কাজে। সন্তান ছিল বাবার মতো ঠিকমতো সংসার চালাতে অক্ষম। অষ্টমী পরের বাড়ি কাজ করে আর মনে পড়ে কখনো বাড়ির কথা কখনো মৃত স্বামী ও নাতনির কথা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *