মায়া সাহা (কলকাতা)

হে কুম্ভিলক!
তুমি তো দেখছি মস্ত বড় শিকারি!
ভাবুকের ঔরসে জন্মানো সন্তানদের ওপর,
ময়নাতদন্ত চালিয়ে,খাবলে খুবলে গুছিয়ে নিয়ে
অবৈধ কবিতা রচনা করছো?
ধার করা শ্বাস নিয়ে অমরত্বের স্বপ্ন দেখছো?
হে ভ্রষ্টা!
একজন সারস্বত সাধকের
চাষের ফসল সুকৌশলে চুরি করে,
কেন সাজাও নিজের চাষের অপুষ্ট জমি?
বলো, কাব্যকারের সন্তান চুরি করে,
সত্যিই কি হওয়া যায় মানী?
হে নকলনবিশ!
স্বমহিমায় যখন তুমি
শব্দচাষির সন্তানদের নারী বিচ্ছিন্ন করো,
শুনতে পাওনা কি অপহৃতদের নীরব আর্তনাদ?
অনুভবে পাওনা কি?
নিরাসক্ত কবিতাযোগী কতটা আঘাতপ্রাপ্ত !
হে শব্দ শিকারি!
বলো যে শব্দমালা কবির প্রাণের স্পন্দন
তারে কেন করছো হরণ?
যদি কবিত্বের খ্যাতি ‘অর্জন করতেই চাও,
তবে ভাবসমুদ্রে ডুব দিয়ে মুক্তা চষে আনো।
সেই মুক্তা দিয়ে খাদবিহীন গহনা গড়ো।
হে মক্ষিকা!
যে সন্তান একজন কবিতাপাগলের
বিনিদ্র রাতের সাধনার আদুরে ফসল,
যে আত্মজা কবির প্রাণের স্পন্দন,
তাকে সুকৌশলে হরণ করে
কেমনে করো তোমার ভাবহীন পঙতির অলংকরণ?
হে তস্কর!
তুমি জানো না? আত্মজাকে চুরি করলেও,
কবির আত্মাকে কখনো চুরি করা যায়না।
চৌর্যবৃত্তিতে যতই পটু হওনা কেন ,
চুরি কাহিনী কখনও থাকে না গোপন !
জনতার আদালতে একদিন তাকে ধরা পড়তেই হয়।