মৌমিতা মৌ (কলকাতা)

আমি চেয়েছিলাম খুব সাধারণ একটা জীবন..
ঝাঁ-চকচকে কর্পোরেট আলোর নয়,
বরং বিকেলের ম্লান রোদে জানালার কার্নিশে জমে থাকা ধুলোর মতো শান্ত।
একটা ছোট্ট সাজানো সংসার,
যেখানে আলমারির ভাঁজে ভাঁজে থাকবে স্মৃতির সুগন্ধ,
আর অসাবধানতায় খোলা জানালা দিয়ে
হঠাৎ ঢুকে পড়া কালবৈশাখী
সবকিছু এলোমেলো করে দিয়ে গেলে..
দু’জনে মিলে আবার গুছিয়ে নেবো জীবন,ঠিক সেই
স্কুল থেকে ভিজে ফেরা বইয়ের পাতার মতো সাবধানে।
চেয়েছিলাম — একখানা খাতা-কলম,
কিছু অসমাপ্ত কবিতা,
বিছানার পাশে স্তূপ হয়ে থাকা বই,
আর বারান্দার টবভর্তি ফুলের দিকে তাকিয়ে
দিনশেষের ক্লান্তি আলতো করে নামিয়ে রাখা।
আমি বৃষ্টিতে ভিজতে চেয়েছিলাম নির্বাক গাছের মতো,
আর চেয়েছিলাম…
পাহাড়ের চূড়োয় দাঁড়িয়ে মেঘ ছুঁতে,
উত্তাল নদীর ঢেউয়ে হারিয়ে ফেলতে দৃষ্টি!
চেয়েছিলাম, নোনা হাওয়া গায়ে মেখে সমুদ্রকে দেখতে..
যে বারবার বালুতটে আছড়ে পড়েও
ফিরে যায় নিজের গভীরে,
ঠিক মানুষের না-বলা ভালোবাসার মতো।
আর চেয়েছিলাম একজন মানুষ..
মনের মতো না হোক, নিখুঁত হতে হবে কিংবা আদর্শ পুরুষ এমনটাও নয়, শুধু যেন বোঝে আমার পাগলামি গুলো!
কেবল ছবির মেকি বিলাসিতার নয়, সে..
দিনশেষের আমার একমাত্র আশ্রয় ও নিরাপত্তা যেন হয়।
যে কপালে আলতো চুমু এঁকে
সব যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারে,
যে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলে
পৃথিবীর সমস্ত ভাঙাচোরা শব্দের গোঙানি স্তব্ধ হয়ে যায়।
কখনও বুকে মুখ গুঁজে
কেঁদে হালকা হয়ে ঘুমিয়ে পড়া,
কখনও ক্লান্ত সন্ধ্যায়
কাঁধে মাথা রেখে নীরবতাকে ভাগ করে নেওয়া,
কখনও শুধু হাতটা শক্ত করে ধরে বলা..
“আমি আছি।”
আমি আসলে খুব বেশি কিছু চাইনি..
শুধু একটু বেঁচে থাকার মতো জীবন,
একটু মায়া, একটু বন্ধুত্ব, একটু নির্ভরতা, আর
ভালোবাসা নামের বিশ্বাস ও ভরসার একটা নিরিবিলি ঘর।