শুক্লা সরকার (কলকাতা)

এখন জ্যৈষ্ঠের রোদ্দুর!গরম পড়েছে!
সেই কবে থেকে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়।
পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদী চলতে চলতেই বললো,
আমি চললাম পাহাড়, বড্ড খরা চলছে!
এভাবেই ধুঁকতে ধুঁকতে সাগরের কাছে
আশ্রয় নেবো, আবার যখন বর্ষা আসবে
আমি তোমার কাছে আসবো পাহাড়!
তুমি ভালো থেকো বন্ধু…
চমকে উঠে পাহাড় বললো,
দাঁড়াও, দাঁড়াও নদী, একটু দাঁড়াও!
অনেক বলার আছে কথা!
যেওনা নদী, তুমিই তো ছিলে,
আমার কথা বলার সাথী, বন্ধু।
আমি যে বড্ড একা নদীবন্ধু।
আমাকে ছুঁয়ে,আমার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া
আমার সুখ দুঃখের কথা বলা নদী।
এমন ছলাৎ ছলাৎ, কুলুকুলু সুর শোনাবে কে?
তুমি যেওনা নদী? আমার যে তোমাকে ছুঁয়েই
সারাটা দিন কাটে, রাত কাটে।
কত গল্প শুনি, তোমার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া
কত ঝড়ের কবলে পড়া মানুষের গল্প,
কত প্রাণীদের আশ্রয় দেবার গল্প,
মৃত মানুষের সৎকার করার গল্প,
মাঝি মাল্লাদের জীবিকা নির্বাহের গল্প,
কত প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসার গল্প
কে শোনাবে নদী, তুমি চলে গেলে?
আমি যেমন একা দাঁড়িয়ে আছি চিরকাল,
তেমনই দাঁড়িয়ে থাকবো তোমার অপেক্ষায়।
পাহাড় চিরস্বরে ব্যথিত বুকে জানালো,
ফিরে এসো নদী, সময়মতো ফিরে এসো,
তুমি আমার কাছের বন্ধু, হৃদয়ের অনুভূতি,
মনের কথা বলা বন্ধু,আমিও যে তোমাকে
খুব ভালোবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি।
