প্রাণের মিতা

তনুশ্রী সামন্ত (কলকাতা)

কেমন আছো? কেমন আছো?
এখন তুমি মধুমিতা? প্রাণের মিতা?
অনেকটা দিন এখন তোমার ফোন আসেনা!
ভুলতে চাইছো? আমাকে আর সেদিন গুলো?
যেদিন গুলো আমি ভীষন আঁকড়ে বাঁচি!
রোজ সকালে যে দিনগুলোর ধূলো ঝাড়ি!
জানো, তুমি মধুমিতা?
এখন আমি তোমায় ছাড়াই
তোমার ছবি আঁকতে পারি!

সেই যে ফাগুন,সেই যে আগুন!
হলুদ রঙা তোমার শাড়ি!
আমি তখন ভ্যাবলা মতন নতুন স্কুলে!
তুমি অনেক আগে থেকেই,
আগে থেকেই সেথায় ছিলে!
বন্ধুত্বই ছিলো ভালো,
হঠাৎ কেমন তোমার দুচোখ বদলে গেলো!
তোমার হাঁটা, তোমার দেখা
তোমার ছোঁয়া বদলে গেলো!
আমি তো ছাই শুকনো পাতা!
অমন ভীষণ হলুদ ঝড়ে
আমি তো তাই উড়েই গেলাম!
আমারও তাই হঠাৎ নৌকা টলোমলো!

তারপর ঠিক যেমনটা হয়,
ঝড় ফুরোলেই আমি একটা মোচড়ানো গাছ!
তোমার একটা বদলি হলো,
বাড়ির কাছেই, ভালোই তো বেশ!
ঘর বর সব কাছেই এলো!

সেদিন ভীষণ শ্রাবন ছিলো!
আকাশ জুড়ে নয়কো তেমন!
ছিলো আমার দুচোখ জুড়েই!
বললে তুমি, কী আর এখন করবো বলো?
শাশুড়ি মা অসুস্থ খুব!
আমি বললাম, ঠিক আছে তো!
তবুও পারলে, যদি পারো…
মাঝে মাঝে ফোনটা দিয়ো,
তুমি বললে ওটা আবার বলার কথা!
কোনোদিনই ভুলবে নাকো তোমার মিতা!

তারপরে ঐ বছর খানিক!
তারপরে ঐ নতুন খুকু!
তুমিই ছবি পাঠিয়েছিলে!
তোমার মতোই মিষ্টি ভারি!
এমন মিষ্টি খুকুর সাথে
তোমার ভরা সুখের সাথে
আমিও কি আর করতে পারি তেমন আড়ি!
আমি কি আর রাগতে পারি!

না না তোমায় দোষ দেবো না!
ফোনের কথাও বলবো না কো আর কোনদিন!
নাম্বারটাও পাল্টে নিলাম জানো মিতা,
বদলী আমার এসেও ছিলো,বাড়ির কাছেই!
মা বললো, বিয়ের কথা…
আমি বললাম,কী প্রয়োজন?
দাদা আছে, ভাইও আছে,
আমি নাহয় দুরেই থাকি আমার মতো!
মা অহেতুক ভাবনা করে আমায় নিয়ে!
আমি তো এক পুরুষ মানুষ!
আমি একাই সামলে নেবো আমার ক্ষত!
বলো মিতা! আমি তেমন পলকা নাকি?

এই এখানের মাটি বাতাস…
এই এখানে তোমার আমার
কত স্মৃতি মাখামাখি!
আমি তো রোজ সেই আলোতে
সেই বাতাসে, সেই ধুলোদের গায়ে মেখে
ভালোই থাকি!
জানো মিতা, আমি তো বেশ ভালোই থাকি!
আমি তো বেশ ভালোই থাকি!
আমি তো এক পুরুষ মানুষ!
একা একাই বুকের ক্ষত সামলে রাখি!

একা একাই বুকের ক্ষত সামলে রাখি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *