
শুধু ডায়মন্ড হারবার নয়, সারা বাংলার মানুষ আমাদের এখানে চিকিৎসা করাতে আসেন: সেবাশ্রয় ২ উদ্বোধনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
বাইজিদ মন্ডল: ডায়মন্ড হারবার:- তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার মহেশতলা থেকে সেবাশ্রয়-এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা করলেন। আগামী দু’মাস ধরে এই লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে বিনামূল্যে মডেল মেডিক্যাল ক্যাম্প চলবে বলে সাংসদ ঘোষণা করেন। প্রথম পর্বের সেবাশ্রয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার পর, এই উদ্যোগের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হলো মূল লক্ষ্য। যার মধ্যে থাকবে ডায়াগনস্টিক, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের দ্বারা চিকিৎসা, বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান এবং ফলো-আপ। শুধু ডায়মন্ড হারবার নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ এর সুবিধা নিতে পারবে বলে ,সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্তারিতভাবে জানান। এই ক্যাম্পগুলো কিভাবে পরিচালিত হবে এবং কারা উপকৃত হবেন,প্রত্যেক রোগী যেন সময় মতো ও বিনামূল্যে চিকিৎসা পান, তার জন্য কী বিশাল পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। সেই নিয়েই বক্তব্য রাখেন সাংসদ, তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে আমরা সেবাশ্রয় প্রথম শুরু করেছিলাম। এটা সেবাশ্রয়ের দ্বিতীয়পর্ব, আর আমি তা মহেশতলার মাটি থেকে উদ্বোধন করলাম। এর আগে আমি বাটা নগরের ক্যাম্পেও গেছি। আমি আমার সংবাদমাধ্যমের বন্ধুদের অনুরোধ করব একবার রথতলা ময়দানের এই ক্যাম্প ঘুরে দেখুন। কত ভালো পরিকাঠামো আমরা তৈরি করেছি, দেখে আসুন। অর্থপেডিক্স, নিউরোলজি থেকে শিশুরোগ, প্রত্যেকটা আলাদা বিভাগের জন্য এখানে পৃথক চেম্বারে আপনারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেখতে পাবেন,আমরা সমস্তরকম রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। রয়েছে সেরোলজি টেস্ট, আছে ইউএসজি, ইসিজি, স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের পরীক্ষাও। রোগীদের যে সমস্যাই থাকুক না কেন, আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সাধ্য মতো সমস্ত ধরণের পরীক্ষার পরিকাঠামো তৈরি রাখতে। যারা এখানে রক্তপরীক্ষা করতে আসছে, তাঁরা ২ দিনের মধ্যেই সরাসরি নিজেদের ফোনে বা হোয়াটসঅ্যাপে রিপোর্ট পেয়ে যাবে,আমরা ওষুধের ব্যবস্থাও করেছি সেভাবে। যাতে চিকিৎসকরা যতদিনের ওষুধ রোগীকে দেবেন, সেটা ৭ দিন, ১০ দিন বা ১৫ দিন হোক, আমরা গতবারের মতো এবারেও একেবারে তা বিনামূল্যেই পৌঁছে দেব।
আপনারা জানলে খুশি হবেন, যে গতবার আমরা আমাদের ক্যাম্প থেকে প্রায় ১২ লক্ষ রোগীকে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করেছি। যেখানে শুধু ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের মানুষজনই নয়, অন্য জেলার বাসিন্দারা, রাজ্যের দূর দূরান্ত থেকেও এই স্বাস্থ্য শিবিরে এসেছে। ঈশ্বরের কৃপায় কোনও রোগীকে খালি হাতে ফিরতে হয়নি। ২,৫০০-এর বেশি ছানি অপারেশনের পাশাপাশি প্রায় ৭,০০০ রোগীকে হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। এসএসকেএম, বাঙ্গুর, ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজে সেই রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গেও আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। এই মডেল ক্যাম্পগুলোয় অত্যন্ত গুরুতর রোগেরও চিকিৎসা করার পরিকাঠামো রয়েছে। তবুও যখনই রোগীদের বিশেষ পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়েছে, তাঁদের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। সেখানেই আমাদের কাজ থেমে থাকেনি। আমাদের চিকিৎসক এবং প্রতিনিধিরা নিয়মিত রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। আলতাফ হোসেন ঘরামী নামে ৯ বছরের এক শিশুর হৃদযন্ত্রে ছিদ্র ছিল। তাঁকে বজবজের JIMS হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়েছিল। সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এমন আরও বহু উদাহরণ রয়েছে। কেউ এসেছে বীরভূম থেকে, কেউ উত্তর ২৪ পরগনা থেকে। কিন্তু কাউকেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়নি। মহেশ তলায় দুটি মডেল ক্যাম্প রয়েছে, একটি নুঙ্গি এবং একটি বাটানগরে। আর বাকি ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে আমরা একটি করে মডেল ক্যাম্প গড়ে তুলছি। প্রত্যেকটা কেন্দ্রে মোট সাতটি করে শিবির হবে। যেমন আজ মহেশতলায় শুরু হওয়া শিবির সাত দিন চলবে। অষ্টম দিনে শিবির চলে যাবে মেটিয়াব্রুজে। সেখান থেকে সাত দিন পরে বজবজ, তারপর বিষ্ণুপুর, সাতগাছিয়া এবং শেষে ডায়মন্ড হারবারে। গতবার ডায়মন্ড হারবার থেকে শুরু করেছিলাম, এবার সেখানে আমরা শেষ করব। এই কর্মসূচি ২২ জানুয়ারি শেষ হবে। এরপর ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পূজোর কারণে বিরতি থাকবে। ২৪ থেকে ২৮ জানুয়ারি, টানা পাঁচ দিন ধরে সমস্ত মডেল ক্যাম্প একসঙ্গে চলবে। ফলো-আপের জন্য এই পাঁচ দিন রাখা হয়েছে, কারণ অনেক রোগীকে চিকিৎসকরা ১৫ দিন বা এক মাস পরে আবার আসতে বলেন। গতবার প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে চশমা প্রদান করা হয়েছিল, এবং কোনও রোগীকেই তা সংগ্রহ করতে আসতে হয়নি, আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এটাই ডায়মন্ড হারবার মডেল! যাদের যা প্রয়োজন, আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষকে তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি। ডায়মন্ড হারবারের মানুষের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ আমায় এই মাটির বাঁধনে আবদ্ধ করায়। আমি প্রায়ই বলি, আমার জন্মভূমি কলকাতার কালীঘাট, কিন্তু কর্মভূমি হল ডায়মন্ড হারবার। তাই একবার শিবির ঘুরে দেখার অনুরোধ রাখছি।

