
দল থেকে সাসপেন্ড করা হলো ভরতপুরের বিধায়ককে
সংবাদদাতা, কলকাতা -:
মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জ্জীর মুর্শিদাবাদ সফরের দিনই দলবিরোধী কাজের জন্য সাসপেন্ড করা হল ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে। কলকাতার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এইকথা ঘোষণা করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন দলনেত্রী এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জ্জীর নির্দেশেই হুমায়ুনকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়। হুমায়ুন তখন ছিলেন বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলে। সাসপেনশনের খবর পেয়েই সঙ্গে সঙ্গে তিনি সভাস্থল ত্যাগ করেন। প্রসঙ্গত এর আগেও একই কারণে হুমায়ুনকে ২০১৫ সালে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
দল থেকে সাসপেন্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন হুমায়ুন এবং একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দু’একদিনের মধ্যেই বিধায়ক পদে ইস্তফা দেবেন এবং ২২ শে ডিসেম্বর নতুন দলের কথা ঘোষণা করব। তিনি আরও বলেন, তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেননা এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবেন। তার এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
প্রসঙ্গত দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে দল বিরোধী মন্তব্য করে চলেছিলেন হুমায়ুন৷ এমনকি আলাদা দল তৈরির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তার আচরণে দল চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায়। একাধিকবার দলের পক্ষ থেকে বিধানসভায় ডেকে তাকে সতর্ক করা হয়। কিছুদিন চুপ থাকার পর আবার তিনি দলবিরোধী মন্তব্য করতে থাকেন। আগামী ৬ ই ডিসেম্বর বেলডাঙায় ‘বাবরি মসজিদ’ এর শিলান্যাস করার কথা ঘোষণা করে তিনি দলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেন। ঘোষণা করেই তিনি শান্ত থাকেননি। তিনি বলেন তার কাজে বাধা দিলে ওইদিন রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত এনএইচ – ৩৪ জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে। প্রকাশ্যে মহকুমা পুলিশ আধিকারিককে হুমকি দিয়ে তার ‘কলার’ ধরার কথাও বলেন।
তার ওই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিজেপি। সরব হন রাজ্যপাল ড. সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করে হুমায়ুন কবীরকে আগাম গ্রেপ্তারের কথা বলেন। হুমায়ুন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন। তার আচরণে অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। শেষপর্যন্ত দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তাকে সাসপেন্ড করতে বাধ্য হয়।

