নৌকা চালকদের অপেক্ষার অবসান ,শীত পড়তেই পর্যটকদের আগমনে নৌকা চালকদের প্রস্তুতি তুঙ্গে

নৌকা চালকদের অপেক্ষার অবসান ,শীত পড়তেই পর্যটকদের আগমনে নৌকা চালকদের প্রস্তুতি তুঙ্গে

কাজল মিত্র: মাইথন:- শীতকাল মানেই পিকনিক, ঘুরতে যাওয়া আর বনভোজন।পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সবথেকে জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান হল মাইথন। দামোদরের কোলে নির্মিত এই জলাধার বারবার পর্যটকদের আকর্ষণ এর কেন্দ্র বিন্দু ।তাই প্রত্যেক বছর ডিসেম্বর মাস আসতেই  বনভোজন করতে বলুন কিংবা ঘুরতে বলুন দুর দূরান্ত থেকে  বহু মানুষ ভিড় জমায় এই বিস্তীর্ণ জলাশয়ের পাড়ে। লাগাতার এক মাস ধরে পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে এই এলাকায়। তাই পর্যটকদের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে মাইথন।একই সাথে সারাবছর যাদের আশা নিয়ে এই দুটি মাস এর কিছুটা উপার্জন করবে বলে বসে থাকে সেই নৌকা চালকেরাও প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ।

মাইথনে যে সমস্ত পর্যটকরা আসেন, তাদের পিকনিক করার পাশাপাশি অন্যতম লক্ষ্য থাকে মাইথন জলাধারের উপর নৌকাবিহার করা। চারিদিকে পাহাড়ে ঘেরা এই শান্ত জলাশয় নৌকাবিহারের মজা নিতে চান পর্যটকরা।যা স্থানীয় বহু মানুষের উপার্জনের অন্যতম উপায়। কারণ পর্যটকদের নৌকায় ঘুরিয়ে স্থানীয় এলাকার বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। সেজন্য নৌকা চালকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে।

নৌকাগুলিতে নতুন করে রং করা হয়। যে সমস্ত নৌকাগুলি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেগুলির মেরামত করা হয়। পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য সুন্দর করে নৌকা গুলোকে সাজিয়ে তোলা হয়।

কারণ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। তাই তার আগে থেকে নৌকা চালকরা নৌকাগুলি সাজিয়ে তোলেন।

কারণ সারাবছর সেরকম ভাবে পর্যটক না থাকলেও বছরের এই দুটি মাস পর্যটকদের জন্যে মাইথনকে নিজেদের সাধ্য মত সাজিয়ে তোলে ।

তাই পিকনিকের মরশুম আসার আগে একদিকে যেমন মাইথনের নৌকা চালকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, একইভাবে স্থানীয় হোটেলগুলি প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারসঙ্গে প্রস্তুতি সেরে রাখছে প্রশাসন। কারণ মানুষের ভিড় জমতে যখন থেকে শুরু করে, তখন প্রশাসনেরও সেদিকে নজরদারি চালাতে হয়। যাতে জলাশয় থেকে কোনও দুর্ঘটনা না হয় বা কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি না হয়, সেদিকে প্রশাসনের কড়া নজর থাকে।

স্থানীয় এক  নৌকা চালক আলাউদ্দিন আনসারী  জানান যে এই এলাকাটি যদি আরো সুন্দরভাবে সাজানো যেত তাহলে পর্যটকদের ভিড় আরো বাড়তো ।রাস্তাঘাট ,পানীয় জল আলোর ব্যবস্থা থাকলেও সেরকমভাবে পর্যটকরা সুবিধা না পাওয়ার কারণে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। তাই তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন এই এলাকায় বৈদ্যুতিক আলো, শৌচাগার, ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য কিছু বসার ব্যবস্থা যদি করে দেওয়া যায় তাহলে আরো এলাকাটা উন্নততর হবে। বাড়বে পর্যটকদের আগমন। 

তবে স্থানীয় এক নৌকা চালক প্রদীপ মারান্ডি ও নজরুল আনসারী জানিয়েছেন পর্যটক আসতেই ব্লক থেকে শুরু করা হয় পার্কিংয়ের জন্য টাকা আদায় সেই টাকা মাইথন পিকনিক স্পট এর উন্নয়নের জন্য সেরকমভাবে কাজ করা হয় না,বেশিরভাগ এলাকায় থাকে অপরিচ্ছন্ন । শৌচাগার গুলিতে নেই জলের ব্যবস্থা । তাই প্রশাসন যদি সেগুলো একটু দেখে তাহলে আরো ভালো হয়।

CATEGORIES

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )