চিত্তরঞ্জনের জলাধারে পক্ষীশুমারিতে উদ্বেগজনক চিত্র, কমছে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা

চিত্তরঞ্জনের জলাধারে পক্ষীশুমারিতে উদ্বেগজনক চিত্র, কমছে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা

কাজল মিত্র: চিত্তরঞ্জন:-প্রতিবছরের মতো, সারা ভারতবর্ষের বিভিন্ন বনদপ্তরের অধীনে অনুষ্ঠিত পক্ষীশুমারি যেমন চলছে, তেমনি আমাদের পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তরের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই শুমারি শুরু হয়েছে। নদী, ড্যাম ও জলাধারগুলিতে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি গণনা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এবছর এই শুমারি ১১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।
দুর্গাপুর বন বিভাগের অন্তর্গত আসানসোল রেঞ্জের বন আধিকারিক, বনকর্মী এবং পাখি বিশেষজ্ঞরা চিত্তরঞ্জনের জলাধারগুলিতে ঘুরে পরিযায়ী পাখি গণনা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই কাজটি পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তরের দায়িত্বে সম্পন্ন হচ্ছে, যেখানে বন আধিকারিক, বনকর্মী, পাখি বিশেষজ্ঞ এবং এনজিও ‘WINGS’-এর বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় শুমারির কাজ চলছে। শুমারি শেষে দেখা গেছে, চিত্তরঞ্জনের জলাধারে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা জেলার অন্যান্য জলাভূমির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
একসময় চিত্তরঞ্জনের জলাধারগুলি পরিযায়ী পাখিদের জন্য অত্যন্ত পরিচিত ও নামকরা আশ্রয়স্থল ছিল। শীত এলেই এখানে দেশ–বিদেশ থেকে নানা প্রজাতির পাখি আসে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই দৃশ্য বদলেছে। এবছরের পক্ষীশুমারিতে Lesser Whistling Duck, Eurasian Wigeon, Northern Pintail, Tufted Duck, Red Crested Pochard, Common Pochard ও Ruddy Shelduck-এর মতো কয়েকটি প্রজাতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও সংখ্যার দিক থেকে তা সীমিত। অনেক জলাধারেই আগের বছরের তুলনায় পাখির উপস্থিতি কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিত্তরঞ্জনের জলাধারগুলিতে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি মানবসৃষ্ট কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যেমন, নৌকায় মাছ ধরা ও উড়িয়ে দেওয়া, মানুষের চলাচল ও বিরক্তি বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে পাখিরা আগের মতো নিরাপদভাবে থাকতে পারছে না। কোথাও কোথাও মাছচাষ ও জলে ব্যবহৃত রাসায়নিকের প্রভাবও পরিবেশের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলছে।
শুমারি শেষে বন আধিকারিক, বনকর্মী ও পাখি বিশেষজ্ঞরা চিত্তরঞ্জনের জলাধারগুলিতে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ায় গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চিত্তরঞ্জনের জলাধার ধীরে ধীরে পরিযায়ী পাখিদের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
পরিবেশবিদদের মতে, এটি শুধু পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয় নয়, বরং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার একটি স্পষ্ট সতর্ক সংকেত। চিত্তরঞ্জনের জলাধার একসময় যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত ছিল, তা আজ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রকৃতি সংরক্ষণে মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ সবচেয়ে জরুরি—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

CATEGORIES

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )