চিত্তরঞ্জন রেল শহরে আবারো নিজেই নিজেকে গুলি চালানোর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য

কাজল মিত্র: চিত্তরঞ্জন:- চিত্তরঞ্জন রেল শহরে আবারো নিজেই নিজেকে গুলি চালানোর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ঘটনাটি  চিত্তরঞ্জন শহরের নর্থ এলাকার ৬৪ নম্বর রাস্তার ২৫ বি কোয়ার্টারে ঘটে। ছয় মাস আগে স্ত্রী সঞ্চিতা চৌধুরীর রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসা প্রদীপ চৌধুরী রবিবার সন্ধ্যায় নিজেই আত্মহত্যা করেন। ঘটনাটি ঘটে কোয়ার্টার নং ২৫-বি, ৬৪ নম্বর স্ট্রিট-এ। গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। লোকেরা দরজা ভাঙার চেষ্টা করলেও তা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে চিত্তরঞ্জন থানার ইনচার্জ ইসমাইল আলী তার দলবল নিয়ে উপস্থিত হন এবং দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিল প্রদীপের মৃতদেহ। মৃতদেহ এর পাশেই পরে ছিল একটি রিভলবার ।পুলিশ উদ্ধার করেছে পিস্তলটি ।তবে  ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা হয়েছে  এবং  তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ । প্রাথমিক অনুমান,বেশ কিছুদিন আগে বাসন্তী  পুজোর দিন এই প্রদীপ চৌধুরীর  ২৮ নম্বর রাস্তার কোয়ার্টার্সে তার স্ত্রীর গলাকাটা দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। ‌সেই ঘটনায় প্রদীপ বাবুকে চিত্তরঞ্জন পুলিশ বহুবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।  তার স্ত্রীর হত্যার পর থেকে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন, খুব কম কথা বলতেন এবং একা থাকতেন।

 হতাশা এবং মানসিক চাপের কারণে প্রদীপ আত্মহত্যা করেছেন। 

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এই কোয়ার্টার্সে প্রদীপবাবু ও তার পুত্র দেবদিত্য থাকছিলেন। আজ দুপুরের পর দেবদিত্য বাইরে বেরিয়েছিলেন এবং সন্ধ্যা নাগাদ ফিরে দেখেন কোয়ার্টার্সের দরজা বন্ধ। বহুক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও স্থানীয় ভাইস ওয়ার্ডেন এলাকায় পৌঁছান এবং দরজা ভেঙে দেখেন ভেতরের ঘরের বিছানায় প্রদীপবাবুর গুলিবিদ্ধ দেহ পড়ে আছে। তিনি নিজেই নিজেকে গুলি করলেন নাকি অন্য কোন ঘটনা এর পিছনে আছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। চিত্তরঞ্জন পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে।

আপাতত, চিত্তরঞ্জন নীরবতা এবং সন্দেহের আড়ালে আচ্ছন্ন।

তবে ২০২৫ সালের এপ্রিলে সঞ্চিতার হত্যাকাণ্ড চিত্তরঞ্জনে সাড়া ফেলেছিল, কিন্তু পুলিশ এখনও কোনও দোষীকে ধরতে পারেনি।  স্বামীর আত্মহত্যা মামলাটিকে আবার আলোচনায় এনেছে। মানুষ প্রশ্ন তুলছে যে এটি কি অপরাধ রোধের ঘটনা নাকি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *