নদী ও মেয়ের উপাখ্যান
মৌসুমী মন্ডল (কলকাতা)

অচিন গাঁয়ের অচিন মেয়ে,নদীর ধারে ছোট্ট বাড়ি,
নদীতে যায় জল আনতে,পরনে তার ডুরে শাড়ি।
কলস টা তার অন্যরকম,খুব আলাদা সবার চেয়ে,
আপন হাতের অল্পনাতে সাজিয়েছে যতনে মেয়ে।
সেই নদীতে রোজ দুপুরে,একটা ছেলের নৌকা ভাসে, ডুরে শাড়ির মেয়েকে দেখে সেই ছেলেটা মুচকি হাসে।
তারপরে সেই নৌকাখানা, আবার হারায় নদীর বাঁকে,
একটুখানি দেখার আশায় চাতক চোখে তাকিয়ে থাকে।
মনের তিয়াস পূরণ হলে,জলের কলস পূর্ণ করে,
মনের মাঝে খুশি নিয়ে ,মেয়েটা ধীরে ঘরে ফেরে।
দুপুরগুলো এমনতরো ছিল অচিন মায়ায় ভরা,
মায়ার ঘোরে মাতাল ছিল,তাই চোখে পড়ে নি ধরা।
ধীরে ধীরে শুকায় নদী,গভীরতা কমে গেছে,
এখান -ওখান নদীর বুকে পলি বালুর চর পড়েছে।
বুঝলো মেয়ে,দেখলো যেদিন এলো না আর নৌকাটা সেই,
মানলো বুকে তৃষ্ণা আছে,কলস ভরার জল শুধু নেই।
শূণ্য বুকে ,শূণ্য কলস ফিরলো মেয়ে নিজের বাড়ি,
দুটি চোখের অশ্রুপাতের সাক্ষী ছিল ডুরে শাড়ী।
চাপা পড়া নদীটাকে,মেয়েটা আজও মনে মনে….
ভালোবাসে,আর লুকিয়ে কাঁদে নিঝুম রাতে খুব গোপনে।
শুকিয়ে যাওয়া নদীর মতোই শুকালো সেই মেয়ের সাধ,
নদী পাড়ের মেয়েটা কাটায় চোখের জলে নির্ঘুম রাত।
শুষ্ক নদী,শুন্য কলস,বুকের ভেতর শূন্যতা,
গল্প এমন রোজই শুনি,তবুও রাখি মৌনতা।

