জীবনের চলার গতি

শুক্লা সরকার (কলকাতা)

জীবনটাই তো যন্তর মন্তর হিসেবের মতো
খানিকটা মিছিলে হেঁটেই পথ পরিক্রমণ।
সেই সেদিনের ভালো থাকার দিনের মতো,
এই জীবন অপেক্ষার প্রহর গোনার মতো,
ছুটে চলেছে,অর্থের বৈভবে, জটিল অঙ্কে।
অনিদ্রিত রাতের পরিশ্রমে আধিপত্য মেনে
আখরের লিপিবদ্ধ ক্যানভাসে আঁকা ছবির
সবটুকুই যে সংগোপনে পাপবোধের কবিতা।
ফুটপাথের শিশুরা মাতৃক্রোড়ে তথ্যসমৃদ্ধ হয়
চিত্রে ভেসে ওঠে জীবনের জলছবির শিল্পে।
যে আলো যেতে পারে না ঠাণ্ডা ঝুপড়ির ঘরে
সে আলো গৃহস্থের ঘরে অনায়াসে ঝলকায়।
সুর্য কি বোঝে,কে গরীব আর কে বড়লোক!
আজকাল বড্ড চোখে পড়ে, মানুষের ভিড়ে, ভালবাসার সুন্দর মুখ ও মুখোশের অন্তরালে
লুকিয়ে আছে কুৎসিত মুখচ্ছবি,পাপবোধ ও
অত্যাচারী, মিথ্যেবাদী,কামনা বাসনার লোভ।
জীবনটা বড্ড অহংকারী, মানববিহীন খেলা,
এ খেলা খুব সহজ নয়,তাই কৌশল অবলম্বী
সকাল থেকে রাত আকাশের নিচে হাত রাখে
চাতক পাখির মতো তৃষ্ণার জলটুকুর আশায়
পায় স্বার্থপরতা,চাটুকারিতা,অসহায়তার রূপ।
ঘুম ও বিশ্রামে আঁধার নামে রাত্রির আঙিনায়,
গল্পের মত যুদ্ধ এবং কলাকুশলতা এক নয়।
রক্তশূন্যতার প্রহর গুনতে গুনতে হেঁটে হেঁটে
একদিন জীবনের ধাবমান সত্তার হাত ধরেই
ঈশ্বরের দেওয়া সংলাপ মুখস্থ করতে করতে
সাজঘরে ফিরে যাবো মুখোশ জীবন পেরিয়ে।
কবিতার মায়াজাল ছিঁড়ে ফেলে এগিয়ে যাবো
ধূসর নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে হেমন্ত সন্ধ্যার মায়া,
শীত রাতে মাঠের আগুনে গা তাপিয়ে নেওয়া,
ঘাসের বুকে রক্তের শিশিররেখা টলমল করে।
ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে, ভোরের দরজায়
চেতনার অনুভব নিশানা খুঁজে খুঁজে বেড়ায়।
ঘামে ভেজা শ্রমিকের স্বপ্ন ঝরে পড়ার মতই
আমার বিষন্নতা,হতাশা, আকুলতার কবিতা
যেন আমার জীবনের দিনযাপনের পদাবলী।

CATEGORIES

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )