
মাঘীপূর্ণিমায় সাগরমুখী লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থী। গঙ্গাসাগর সাগর মেলার পর আরও একবার সেজে উঠেছে গঙ্গাসাগর। ভোর থেকে কাকদ্বীপ থেকে সাগরমুখী পুণ্যা র্থীরা
রমেশ রায়, গঙ্গাসাগর:- পূণ্যার্থীদের কথা ভেবে প্রাশাসনিকভাবে সবরকম বন্দোবস্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তায় অতিরিক্ত জোর দিতে বাড়ানো হচ্ছে পুলিশের সংখ্যা। স্নানের পর কপিলমুনি মন্দিরে পুজো দেওয়ার লম্বা লাইন পড়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুণ্যার্থীদের জন্য শৌচালয়, যাত্রীনিবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মকর সংক্রান্তির পর মাঘী পূর্ণিমায় সবচেয়ে বেশী পুণ্যার্থীর সমাগম হয় সাগরে। গত কয়েক বছর এক লক্ষেরও বেশী পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে। এবারের ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা প্রশাসনের।
এ নিয়ে জিবিডিএর চেয়ারম্যান শ্রীমন্ত মালি জানিয়েছেন, এবছর এখনও পর্যন্ত ২০ লক্ষের উপর পূণ্যার্থী এসেছেন। পূণ্যার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এবার অন্যান্যবারের তুলনায় পুণ্যার্থীর ভিড় অনেক বেশি। সেকথা মাথায় রেখেই এবার আলো, টয়লেট, বার্জ ও ভেসেল পরিষেবা বাড়ানো হয়েছে। মাঘী পূর্ণিমার স্নান উপলক্ষে এবছর কচুবেড়িয়া, গঙ্গাসাগর ও বেনুবনে টয়লেটের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ টি করা হয়েছে। গতবার এই সংখ্যা ছিল ৩৫০-এর কিছু বেশি। এছাড়াও গঙ্গাসাগরে যাতায়াতের জন্য মুড়িগঙ্গা নদী পারাপার করতে ১২ টি ভেসেল ও দু’টি বার্জ রয়েছে।
কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য ৪০ টি বেসরকারি বাসের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সমস্ত স্নানের ঘাট, সমুদ্রসৈকতের ২ নম্বর রাস্তা ও কে-ওয়ান বাসস্ট্যান্ডে হাইমাস্ট লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রয়েছে বাফার জোনও। সমুদ্রতট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে রাখা হয়েছে সাগর প্রহরীদেরও।
১, ৪ ও ৫ নম্বর স্নানঘাটে পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় ২০০-এরও বেশি সিভিল ডিফেন্স কর্মী ও পুলিশকর্মীরা রয়েছেন। স্নানের ঘাটগুলিতে, কপিলমুনির মন্দিরের সামনে, কে-ওয়ান বাসস্ট্যান্ড ও আরও কিছু এলাকায় নজরদারিতে রাখা হয়েছে ১৫ টি সিসি ক্যামেরা। মোট ১০০০ পুলিশকর্মীকে গঙ্গাসাগর, কচুবেড়িয়া ও বেনুবন এলাকায় তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সমুদ্রসৈকত ও কপিলমুনির মন্দির সংলগ্ন এলাকা জুড়ে চলছে কড়া পুলিশি নজরদারি।

