প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অগ্রগতির পথে বাধা পরিকাঠামোগত অভাব

অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান -: 

       বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে যখন নানান অভিযোগ ওঠে তখন কাঁকসা-২ নং চক্রের     আড়রা কালীনগর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়  প্রাঙ্গণে উপস্থিত হলে মনে হবে এটা যেন অন্য কোনো গ্রহের বিদ্যালয়। শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশুদের সার্বিক উন্নতির দিকে সদা সতর্ক থাকেন এখানকার শিক্ষক-শিক্ষিকারা।পড়াশোনার সাথে সাথে নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি, অঙ্কন, জিমন্যাস্টিক, খেলাধুলা, শরীরচর্চা সহ নানান বিষয়ে পারদর্শী করে তোলার চেষ্টা করা হয়। বিদ্যালয়ের শিশুদের দাবা শেখানোর ব্যবস্থা আছে। বিভিন্ন মনীষীদের জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন করা হয়। 

      বর্তমান শিক্ষাবর্ষে রাজ্য অলিম্পিয়াডে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জেলার মধ্যে প্রথম হয়েছে এবং মহকুমায় তিনজন সাফল্য লাভ করেছে।   

নিখিল ভারত শিশু সাহিত্য সংসদ পরিচালিত  সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের পাঁচজন  শিক্ষার্থী হাতের লেখা, গল্প পাঠ, আবৃত্তি ও অঙ্কনে মোট ১৪ টি পুরস্কার এনেছে। জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুইটি সাহা রাজ্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করে। রিনা রুইদাস ও আদিত্য মাঝি জেলা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছে।  এছাড়াও চক্রে ও অঞ্চলে আয়োজিত নানান প্রতিযোগিতা থেকেও  শিক্ষার্থীরা পুরস্কার নিয়ে এসেছে।

       বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ১৫৫ জন শিক্ষার্থী আছে। এদের অধিকাংশ আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশু। আছেন ৭ জন 

শিক্ষক-শিক্ষিকা।

         বিভিন্ন দিক সাফল্য পেলেও বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনের জন্য পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষের বড্ড অভাব। অবিলম্বে অন্তত দুটি শ্রেণীকক্ষের খুবই প্রয়োজন। 

       প্রধান শিক্ষিকা লক্ষ্মী কিস্কু মাঝি বললেন,  ‘ প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করে আমরা শিশুদের সার্বিক বিকাশের চেষ্টা করি। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে কিছুটা হলেও আমরা সমস্যায় পড়ছি। ইতিমধ্যে আমরা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি আমাদের এই সমস্যার সমাধান হবে’।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *