শ্রাবন মাসের সোমবার উপলক্ষে ভক্তের ঢল বাবা চন্দ্রচূড় মন্দিরে

শ্রাবন মাসের সোমবার উপলক্ষে ভক্তের ঢল বাবা চন্দ্রচূড় মন্দিরে

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী: আসানসোল:- শ্রাবন মাসের বাংলার দ্বিতীয় এবং হিন্দির তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে ভক্তের ঢল আসানসোলের বাবা চন্দ্রচূড় মন্দিরে। শ্রাবন মাসের প্রত্যেক সোমবারে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়ে থাকে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের ১৯নং জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত চন্দ্রচূড় মন্দিরে।বহু দূর দূরান্ত থেকে আসে ভক্তরা বাবার মাথায় জল ঢালতে। তারপর  মন্দিরে ভক্তদের পুজো অর্চনা।

কথিত আছে শ্রাবণ মাস শিবের মাথায় জল ঢালার মাস, অতি পবিত্র মাস। পুরাণ মতে এই মাসেই সমুদ্রমন্থন হয়েছিল ও দেবাদিদেব মহাদেব, মন্থনে উঠে আসা কালকূট বিষ পান করেন। বিষের প্রভাব কম করার জন্য ভক্তরা এই মাসে বিশেষ করে মহাদেবকে গঙ্গাজল অর্পণ করেন। প্রশ্ন উঠতে পারে, শিবের মাথায় স্বয়ং মা গঙ্গার অবস্থান, তবে আর গঙ্গাজল ঢালার কি দরকার? এর উত্তর এই যে, ভক্তের হাতের মধুর ছোঁয়াটুকু প্রভুর একান্তই দরকার, ভক্তের আনা গঙ্গাজলে যে এই সুমধুর ছোঁয়াটুকু থাকে, তাতেই তিনি পরম তৃপ্তি লাভ করেন। ভক্তগণ শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার নিকটস্থ শিবমন্দিরে, অভাবে বাড়িতেই, শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল ও একটি বেলপাতা অর্পণ করে পরম শান্তি লাভ করবেন। কৃপাময় মহেশ্বর কাকে কিভাবে কৃপা করেন, বোঝা খুব মুশকিল; তবে যাকে তিনি কৃপা করেন তার জীবন ধন্য হয়ে যায়। ঈশ্বরের প্রতি ভক্তিলাভই মানবজীবনের উদ্দেশ্য হোক। 

এদিকে রাজ্যের অন্যতম আসানসোলের চন্দ্রচূড় শিবমন্দির।সারা বছরই এই মন্দিরে শিব ভক্তদের আনাগোনা লেগেই থাকে। বিশেষ করে শিব পুজোর বিশেষ দিন গুলিতে ভক্তদের বেশিমাত্রায় ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ৩৫০ বছরের এই মন্দির কিংবদন্তি অনুসারে, কোনও একজন কৃষক মাঠে লাঙল চালাতে গিয়ে এই শিবলিঙ্গ উদ্ধার করেন। তারপর সেটিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তৈরি করা হয় মন্দির।মন্দিরটি ধীরে ধীরে একটি পবিত্র স্থান হিসাবে গুরুত্ব লাভ করে এবং আজও এটি একটি বিখ্যাত শিবমন্দির। মন্দিরটি শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত এবং এখানে বাবা চন্দ্রচূড় রূপে পূজা করা হয়। প্রতি বছর বহু তীর্থযাত্রী এই মন্দির পরিদর্শনে আসেন।  ভক্তদের বিশ্বাস বাবা চন্দ্রচূড় তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।

শ্রাবণ মাস উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসন ও পৌর নিগমের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।

CATEGORIES

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )