মেছো পেত্নী
মায়া সাহা (কলকাতা)

বাবলা ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরতে খুব পটু ।
যখন যেখানে মাছ ধরার খবর পায়, সেখানেই জাল নিয়ে ছুটে যায়। পুকুরে, খালে- বিলে যেখানেই বলোনা কেন, সব জায়গাতেই ও নিজের হাতে জাল ছুঁড়ে মাছ ধরতে ওস্তাদ।
এমনই একদিন, সন্ধ্যের আগ দিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিল ওদের বাড়ির কাছে রেললাইনের পাশের ডোবাতে। মাছ ধরতে ধরতে সন্ধ্যে প্রায় ঘনিয়ে এসেছে।
চারিদিক নিস্তব্ধ, ল্যাম্প পোস্ট গুলোতে টিমটিম করে আলো জ্বলছে। ওর হাতে টর্চের আলোতে মাঝে মাঝে মাছেদের গতিবিধি লক্ষ্য করছে। যেইনা মাছ জলে ঘাই মারছে ওমনি সাথে সাথে জাল ফেলছে। জালে আটকানো মাছগুলো বের করতে করতে, হঠাৎ ওর ডান পাশে চোখটা যায়। দেখে, ডোবার পাড়ে চার পাঁচ হাত দূরে, একজন সুন্দরী মহিলা দাঁড়িয়ে আছে। ওর কপালে বড় লাল টিপ, পরনে লাল পাড়ের সাদা খোলের শাড়ি। ঠোঁট দুটো লাল টকটকে। চোখে যেন কিসের নেশা লেগে আছে ।
এই অসময়ে মহিলাকে দেখে বাবলা অবাক হয়। ও কৌতূহলবশত বলল, "বৌদি আপনি এই সন্ধ্যাবেলা এখানে দাঁড়িয়ে কি করছেন?" মহিলা কোনো উত্তর দেয়না।
বাবলার মনে হলো, মহিলা বোধহয় ওর কথা শুনতে পায়নি। তাই আবার প্রশ্ন করে, কিন্তু মহিলার মুখে কোনো উত্তর নেই। এবার বাবলা ভাবে, "মহিলা বোধহয় সত্যিই কানে কম শোনে, হয়তো ওর মাছ ধরা দেখতে এসেছে।"
এরপর মহিলা এক পা দু পা করে বাবলার পিছু পিছু এগিয়ে আসে। বাবলা আর কিছু বলে না । যখন মাছগুলো বালতিতে রাখতে যায়, দেখে- বালতিতে একটাও মাছ নেই। মাছগুলো রাখছে আর মনে মনে ভাবছে, "আগের মাছগুলো গেলো কোথায়? বালতির ওপর তো ভারী জিনিস চাপা দেওয়া ছিল। তা সত্বেও বালতির মুখ আলগা ! তাহলে কি মাছগুলো লাফ দিয়ে বায়রে পড়ল?"
ভাবতে ভাবতে জলে আবার মাছের ঘাই মারার শব্দ পেয়ে জাল নিয়ে এগিয়ে যায়। সাথে সাথে জাল ফেলে আবার কিছু মাছ পায়। বালতিতে মাছ রাখতে গিয়ে দেখে এবারেও বালতি শূন্য। একটাও মাছ নেই। ভাবছে - আশ্চর্য ! এত তাড়াতাড়ি মাছগুলো গেল কোথায়?
এবার বাবলার মনে সন্দেহ হয় - আমি নিশ্চয়ই "মেছো পেত্নীর" খপ্পরে পড়েছি।
তখন ওর বুকের মধ্যে ঢিপঢিপ করছে। হাত পা যেনো চলছে না। শরীর ভার হয়ে আসছে। কোনোরকমে মাছের বালতি আর জাল গুটিয়ে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়।মেছো পেত্নীও ওর পিছু নেয়।
পেছন থেকে নাকি সুরে আওয়াজ , "এঁই আঁমায় এঁকটা মাঁছ দেঁ... না । কাঁচা কাঁচা খাঁ আ আ ..ব। মাঁছ নাঁ দিঁলে তোঁর ঘাঁড় মঁটকে খাঁব।"
"মেছো পেত্মীর " কথা শুনে ভয়ে ওর প্রাণ ওষ্ঠাগত। ও রাম নাম নিতে নিতে দ্রুতগতিতে হাঁটার চেষ্টা করছে। পেত্নীও দ্রত হাঁটছে।
বাবলা ঊর্ধ্বশ্বাসে রেললাইন টপকিয়ে বাড়িতে ফিরে, বাড়ির দরজায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। সে যাত্রায় ও মহা বাঁচা বেঁচে গেছে এবং তারপর থেকে মাছধরা ছেড়ে দিয়েছে।
CATEGORIES কবিতা

