নতুন বছরের তৃতীয় দিনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা !! জলে ডুবে মৃত্যু এক ব্যক্তির !! তিন ঘন্টা পর দেহ উদ্ধার

রাকেশ লাহা, জামুড়িয়া, পশ্চিম বর্ধমান :-

নতুন বছরের তৃতীয় দিনে চারিদিকে যখন বর্ষবরণের আমেজ ঠিক সেই আবহেই  পুকুরের জলে ডুবে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের পরিবেশ তৈরি হলো পাণ্ডবেশ্বর থানার অন্তর্গত শ্যামলা অঞ্চলের খোট্টাডিহি গ্রামে। 

মৃত ব্যক্তির নাম জয়ন্ত রুইদাস, বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ এর কাছাকাছি। ঘটনাটি ঘটে  শনিবার ভোর আনুমানিক ৫টা নাগাদ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ এবং জেলা সিভিল ডিফেন্সের QRT দল। দীর্ঘ তিন ঘন্টা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দেহ উদ্ধার হয়। বর্তমানে পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ দেহটি নিয়ে যায় ময়না তদন্তের জন্য। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পাণ্ডবেশ্বর থানার অধীন খোট্টাডিহি গ্রামের দাসপাড়ার বাসিন্দা জয়ন্ত রুইদাস। দীর্ঘদিন ধরে জয়ন্ত মদ্যপান করত বলে  সূত্রে জানা যায় । এলাকাবাসীর অনুমান এদিনও হয়তো সে মদ্যপ অবস্থায় পুকুরে জলে নেমে পড়ে এবং গভীর জলে তলিয়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়।  ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় মানুষজন ভিড় জমায় পুকুরের পাড়ে, খবর দেওয়া হয় পাণ্ডবেশ্বর থানায়। এছাড়াও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে খবর দিলে পশ্চিম বর্ধমান জেলা সিভিল ডিফেন্সের কিউআরটি টিম দ্রুত পৌঁছায় ঘটনাস্থলে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল দীর্ঘ তিন ঘন্টার তৎপরতাই জয়ন্তর মৃতদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে দেহটি  ময়নাতদন্তের জন্য পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ নিয়ে যাই। 

ঘটনার সম্পর্কে মৃতের স্ত্রী লক্ষী রুইদাস জানান, প্রতিদিন মদ্যপান করতো আমার স্বামী যার ফলস্বরূপ নিয়মিত বাড়িতে অশান্তি লেগেই থাকতো। সেই কারণে আজ থেকে বেশ কিছুদিন আগে আমি বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। প্রায় এক সপ্তাহ হল জয়ন্তর সাথে আমার কোন রকম কোন কথা হয়নি। কিন্তু শনিবার সকালে আমি হঠাৎই  জানতে পারি  আমার স্বামী জলে ডুবে গেছে , তারপরই হন্তদন্ত হয়ে আমি ছুটে আসি শ্বশুরবাড়িতে এবং এসে দেখি পুকুর পাড়ে বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছেন পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল এসে আমার স্বামীকে খোঁজাখুঁজি করছে। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘন্টা খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে আমার স্বামীর দেহ উদ্ধার হয় এবং পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে। 

উৎসবের আবহে শ্যামলা অঞ্চলের খোট্টাডিহি গ্রামে মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মৃতের পরিবারের নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *