বেআব্রু স্বাধীনতা
রাকা ভট্টাচার্য্য (কলকাতা)

স্বাধীনতা তোমার পোশাক নেই, পোশাকি নাম
আছে শুধু, নামের দিনে তোমার মহান রাজত্ব, গুরুত্ব,
আমার মা আমাদের সবুজ মাকে করে তোলো গরিয়সী! গর্বিত সন্তানেরা তোমাকে সাজিয়ে তোলে, সালাম জানায়, তারপর আটঘাঁট বেঁধে রাজা মন্ত্রী যন্ত্রীরা তোমাকে ধর্মের ভন্ডামিতে করে খন্ডিত খন্ডিত
রক্তাক্ত। তোমার আঁচলে মোছা হয় তোমার ধর্ষিতা
মেয়েদের ধর্ষণ আর খুনের তাজা লাল রক্ত।
মিথ্যাচারের মোড়কে স্বাধীনতা যায় অস্তাগামী।
যারা প্রাণ দিয়েছিল, যারা বুলেটের সামনে বুক
উঁচু দাঁড়িয়েছিল, যারা বুটের তলায় পিঠ পেতেছিল,
যারা জলে জঙ্গলে কাঁটায় ছিন্নভিন্ন হয়েছিল–
আমিও কি তাদেরই দলে ছিলাম না স্বাধীনতা
আনবার দিনে? জহর ব্রতে ছিলাম না নাকি আমি?
স্তন থেকে যোনী ছিঁড়ে দিয়েছি গরম সাঁড়াশির
নির্দয় প্যাঁচে, তবু আজও কেন স্বাধীন মায়ের কোলে ছিঁড়ে যায় দুই স্তন, নব্বই ডিগ্রি ছিঁড়ে যায় দুই উরু,
যোনী খাদ খুঁড়ে রাখা হয় উল্লাসের নৃশংস উপহার!
স্বাধীনতা তোমার পোশাক নেই !!
আমি পুরুষের পাশে কোথায় নেই!
আকাশে মহাকাশে সাহিত্যে সংস্কৃতিতে, রাজনীতি
জ্ঞানে বিজ্ঞানে ধর্মে সংস্কারে সংস্করণে
তবু মানুষের দুর্নীতি বিবেকহীনতা, অশিক্ষা, আর
আদর্শহীনতা আমাকে সুযোগ সন্ধানে করে চলেছে
নির্দয় নগ্ন দিনে রাতে রাস্তায় কলেজে হাসপাতালে।
স্বাধীনতা তোমার পোশাক নেই।
স্বাধীনতা এসো শিক্ষায়, এসো নীতিতে, এসো আদর্শে
বিবেকের দরজা করো প্রসারিত —
এসো জ্ঞানের আলো, এসো মানব ধর্মের আলো
আমাকে কর সেই উজ্জ্বল চেতনায় একেবারে
আলোকিত স্বাধীন মুক্ত। স্বাধীনতার পোশাকে হোক
আমাদের মা আমাদের ভারত মাতা আবার গর্বিত।