ভালোবাসার খোঁজে
সঙ্গীতা কর (কলকাতা)

সামনে দাঁড়িয়ে আছে অগভীর জীবন সমুদ্র
দুহাতে ঘৃণা সরিয়ে সাঁতার কেটে এগিয়ে চলেছি
ক্লান্ত অবসন্ন দেহ
তার থেকেও বেশি ক্লান্ত মন
জীবনকে প্রশ্ন করলাম
ভালোবাসা কোথায় থাকে?
সে বললো সময় নাও, সন্ধান করো
সেই থেকে খুঁজে চলেছি
প্রতিটি বাঁকে বাঁকে
দেখা হলো বিবাহ বয়স উত্তীর্ণা রাবেয়া দিদির সাথে
তার টই টুম্বুর চোখ
আষাঢ়ের বৃষ্টির মতো
ডেকে বললাম তুমি জানো ভালোবাসা কোথায় থাকে?
উত্তর দিলো আরে সে তো না দেখা মরীচিকা।
তারপর দেখা হলো এক বেকার যুবকের সঙ্গে
তার পিঠ ভর্তি কাগজপত্রের বোঝা
মুখে উদাসীনতা
চাকরির পরীক্ষার মতো প্রেমেও প্রত্যাখ্যাত হয় প্রতিদিন
প্রশ্ন শুনে সে এক মুঠো বিষাদ ভরে দিলো দুহাতে।
আমার বাড়ির পাশে যে বিধবা সুমতি পিসি থাকেন
লেখাপড়া তেমন জানেন না
দুপুর হলেই আচারের বোতলে উপছে পরে পিসির আবেগ
আমার কথা শুনে খানিক অবাক হয়ে তাকালেন
তার দৃষ্টিতে অতৃপ্তি
বোতল গুলো রাখতে রাখতে বললেন
ভালোবাসা আসলে এই আচারের মতো রে
যার স্বাদ কোনোদিন মেটে না
এই আমাকেই দেখ
এখনো বুকে তৃষ্ণা নিয়ে ঘুরছি অথচ মেটানোর উপায় নেই,
আমি ধাক্কা খেয়ে ছুটে গেলাম মায়ের কাছে
তুমি বলো, তোমায় বলতেই হবে
তুমি তো আমার সব প্রশ্নের সমাধান করে দাও
তুমি বলো মা, তুমি বলো
মা হেসে বললো প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করে ভূমিষ্ঠ সন্তানের দিকে তাকিয়ে আনন্দের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো
তার নাম দিয়েছিলাম ভালোবাসা,
সেই থেকে আগলে আগলে রাখতাম
কিন্তু সময়ের স্রোত এসে বললো ভালোবাসা সব সময় এক জায়গায় থাকে না
এই যেমন তোর যাওয়ার সময় হয়ে আসছে
এখন প্রতি রাতেই সানাইয়ের সুর শুনি
বড় কষ্ট হয় রে!
যন্ত্রণায় মুখ নির্বাক হলো
রাতে শুয়ে শুয়ে অদৃশ্য ভালোবাসাকে চিঠি লিখলাম
আমায় ক্ষমা করো
আমায় ক্ষমা করো
এ জীবনে আমার বোধিসত্ত্ব হওয়া হলো না।