তাজমহল : প্রেমের শোকগাথা
রাই প্রিয়া (ক্যানিং, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা)

যমুনার শান্ত জলে আজও ঝিলমিল করে এক অপার দীর্ঘশ্বাস,
শাহজাহানের প্রেমের প্রতিচ্ছবি, সম্রাটের হৃদয় নিঃসৃত প্রেম বিরহের আকুলতা।
যেখানে সময় থেমে গেছে মমতাজের নিঃশ্বাসের বিরহ বেদনায়।
যেন সাদা পাথরের বুকে বন্দী আছে এক অমর বিষাদগাথায়।
তাজমহল—শুধু সৌধ নয়, এ এক গভীরতম বেদনার সমাধি,
যেখানে প্রেম কাঁদে, বিরহ কাঁদে,
আর ইতিহাস প্রতিনিয়ত ফিসফিস করে বলে—
অস্তিত্ব কি কখনো মৃত্যুর কাছে সত্যিই হারে?
প্রতিটি মার্বেলের গায়ে আছে অদৃশ্য কান্নার দাগ,
যেন শাহজাহানের ভগ্ন হৃদয়ের প্রকাশিত অনুরাগ।
প্রতিটি খিলানে থমকে আছে নিঃশব্দ আহাজারি,
যেখানে মমতাজের নাম উচ্চারিত হলেই
দেয়াল সিক্ত হয় অনাহূত অশ্রুবারি।
কেউ বলে—নিশুতি রাতে যখন নিস্তব্ধ হয় তাজমহলের অন্তঃপুর,
বহমান বাতাসের কানে যেন শোনা যায় এক নারীর করুন সুর।
মমতাজ যেন ডাকছে তার প্রিয়তম সম্রাটকে,
প্রেম কি এতই অপূরণীয়, এতই অনন্ত? কেবলই অপ্রাপ্তিতে !
আর দূর হোতে সম্রাটের আত্মা উত্তর দেয়,
তুমি আছো বলেই আমার শূন্যতায় ও অস্তিত্ব…
তুমি আছো বলেই এ হৃদয় অম্বরসম দূরত্বে ও প্রেমে পরিপূর্ণ।
চাঁদের আলো নরম হয়ে ঢলে পড়ে বনানীর গায়,
শ্বেতপাথরের গায়ে খেলে যায় অপার দীপ্তি, অশ্রুবিন্দুর ন্যায় ।
কে জানে—এ কি যমুনার জল ,
না কি ইতিহাসের বুক হোতে ঝরে পড়া অদম্য ক্রন্দন?
যেদিন মমতাজ চলে গেলেন নিঃশব্দে,
সেদিনই শাহজাহান হারালেন তাঁর সকল দিগন্ত,
রাজ্য-মুকুট-ক্ষমতা সবই হয়ে গেল অর্থহীন,
একটিমাত্র ইচ্ছে রয়ে গেল—
প্রেমকে অমর করে রাখা, সূর্য পৃথিবীতে আলো দেয় যতদিন।
তাজমহল তাই শুধু স্থাপত্য নয়—
এ সম্রাটের অমোঘ প্রতিজ্ঞা, নিরবধি প্রেমসত্তা,
প্রেমের এমন অখণ্ড শিলালিপি
যা মৃত্যুরও অতীত, যেন প্রেমময় পরমাত্মা।
আজও দেয়ালের কানে
নিঃশব্দে শোনা যায় এক দীর্ঘশ্বাস .. করুন সুর, মর্মভেদী হাহাকার—
প্রেমের সমাপ্ত নেই, শেষ নেই স্মৃতির, ও সীমাহীন ব্যথার।
যমুনার বাতাস ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে,
আর তাজমহল দাঁড়িয়ে থাকে এক অনন্ত প্রশ্ন নিয়ে—
বিরহ কি সত্যিই প্রেমকে মুছে দিতে পারে,
হাজার হাজার বছর পরে?
না কি হৃদয়ের সকল প্রেম সকল বিরহ দীর্ঘশ্বাস প্রতিষ্ঠিত তাজমহল হয়ে!
পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য,
এই শ্বেত শুভ্র সমাধির অশ্রুস্মিত মহিমা,
আজ ও বুকের মাঝে অনুভূত চূড়ান্ত প্রেম- বিরহের সিম্ফনি, অন্তঃসলীলা প্রবাহমান।।

