রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, আসানসোল -:
ভাই-বোনের ভালোবাসার প্রতীক হলো রাখি বন্ধন উৎসব। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষ এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে। এই দিন বোনেরা ভাইদের মঙ্গল কামনা করে তাদের হাতে রাখি নামে একটি পবিত্র সূতো বেঁধে দেয়। অন্যদিকে বোনদেরও সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয় ভাইয়েরা।
আজ অর্থাৎ শনিবার হলো শ্রাবনী পূর্ণিমা ও রাখী বন্ধন উৎসব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ শাসক লর্ড কার্জনের প্রস্তাবিত বঙ্গভঙ্গ আইন রদ করার প্রতিবাদে আন্দোলন সংঘটিত করেন। হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর রাখী বন্ধন উৎসবের ডাক দেন কবি। অবশ্য রাখী বন্ধন আমাদের দেশের অতি প্রাচীন সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনের এক উৎসব। এই বিশেষ দিনটি সারা রাজ্যের সঙ্গে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের নানা প্রান্তে রাখী বন্ধন উৎসব পালিত হলো।
এদিন বিএনআর মোড় সংলগ্ন রবীন্দ্র ভবনের সামনে রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটকের স্ত্রী সুদেষ্ণা ঘটক মহিলা সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে আয়োজন করলেন এক বিশেষ রাখি উৎসব।
এদিন পথচারী, রিকশাচালক, ড্রাইভার, এমনকি দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের হাতেও বাঁধা হলো রাখি, জানানো হলো দীর্ঘায়ু, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির শুভকামনা।
এই প্রসঙ্গে সুধেষ্ণা ঘটক বলেন রাখি শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের প্রতীক নয়, এটি একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, সম্মান ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির প্রতীক।
এই রাখি উৎসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল পুরনিগমের চেয়ারম্যান আমারনাথ চ্যাটার্জী, ডেপুটি মেয়র ওয়াসিমুল হক, বোরো চেয়ারম্যান অনিমেষ দাস, বিশিষ্ট শিল্পপতি শচীন্দ্রনাথ রায়, আসানসোল চেম্বার এর শম্ভুনাথ ঝা চিকিৎসক ডাঃ অরুনাভ ঘোষ সহ আরও অনেকেই।
