
আসানসোলে আয়োজিত হলো লোকশিল্পীদের জন্য কর্মশালা
অঙ্কিতা চ্যাটার্জী, আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান:- বাংলার আনাচে কানাচে কীর্তন, বাউল সহ লুকিয়ে আছে অসংখ্য লোকশিল্প। এলাকার সীমা ছাড়িয়ে লোকশিল্পীদের জনপ্রিয়তা একসময় পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি বিদেশেও। বর্তমানে তথাকথিত আধুনিকতার চাপে এদের অনেকেই হারিয়ে যেতে বসেছে মানুষের মন থেকে। অনেকেই পারিবারিক পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় যোগ দিতে শুরু করেন। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মমতার ছোঁয়া পেয়ে সেগুলি আবার ধীরে ধীরে তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। লোকশিল্পীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য সরকারি উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত হচ্ছে কর্মশালা। সেখানে সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতাদের সামনে তাদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন। সম্প্রতি লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্যোগে এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সক্রিয় সহযোগিতায় ছোট্ট একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আসানসোলের সরকারি যুব আবাস হলে জেলার কীর্তন শিল্পীদের জন্য একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কয়েকজন কীর্তন শিল্পী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের পরিবেশিত কীর্তন উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নমবলম এস। তিনি ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল পৌরনিগমের চেয়ারম্যান অমরনাথ চ্যাটার্জী, ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক, এমএমআইসি গুরুদাস চ্যাটার্জী এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক রাজেশ কুমার মন্ডল, আসানসোলের মহকুমা শাসক (সদর) বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য সহ আরো অনেকেই। উপস্থিত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জেলাশাসক বলেন - রাজ্যের হারিয়ে যেতে বসা লোকশিল্পের পুনুরুজ্জীবনের স্বার্থে এই ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা খুবই প্রয়োজন এবং এরজন্য তিনি জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তার আশা এই কর্মশালার মাধ্যমে নবীন প্রজন্ম নিজ রাজ্যের ঐতিহ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হবে।