
মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আন্তর্বিদ্যালয় প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রবীন্দ্র চর্চার সাথে নজরুল চর্চা
বাইজিদ মন্ডল: ডায়মন্ড হারবার:- প্রতি বছরের মতো এবারও ডায়মন্ড হারবার পৌরসভার সহযোগিতায় ও ডায়মন্ড হারবার মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে,পশ্চিম বঙ্গ কাজী নজরুল ইসলাম আকাডেমি তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ,পশ্চিম বঙ্গ সরকারের নিবেদন নজরুল বিষয়ক আন্তর্বিদ্যালয় প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডায়মন্ড হারবার পৌরসভার মেঘনা ভবনে। এখানে ডায়মন্ড হারবারে বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫ টি স্কুলের প্রায় ৮০জন ছাত্র ছাত্রী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এদিনের প্রতিযোগীর শিরোনাম ছিল নজরুল কে কেনো আমাদের ভালো লাগে,সেই বিষয়ে লেখার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল এক ঘন্টা। এখানে পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ডায়মন্ড হারবার মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক ব্রতী বিশ্বাস (দত্ত), এছাড়াও বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,কুলতলি ড: বি আর আম্বেদকর কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুপম প্রামানিক,সোনামুখী জনকল্যাণ বিদ্যাপীঠ এর শিক্ষক ওয়াসিম রাজা,সঞ্চালনায় শিক্ষিকা মিতা কাঞ্জি সহ আরো অন্যান্য আধিকারিক ও তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কর্মকর্তা প্রমুখ। নজরুলকে কেনো আমাদের ভালো লাগে সেই বিষয়ের উপর ভালো লেখার জন্য সেই সব ছাত্র ছাত্রীদের সার্টিফিকেট ও পুরস্কৃত করে তাদের কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অধ্যাপক রূপম প্রামাণিক তিনি বলেন কাজী নজরুল ইসলামের লেখায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্য ও মানবতার জয়গান করা হয়েছে,যা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং তার শক্তিশালী ও মনমুগ্ধকর লেখনী পাঠককে আকর্ষণ করে। তিনি দেশপ্রেমী হিসেবে পরিচিত এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলতেন এবং তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করতেন। অসাম্প্রদায়িক মনোভাব
নজরুল তাঁর লেখায় ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সব মানুষের জন্য এক পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করে কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে তিনি জাতীয় কবি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন,যা অনেকের জন্য প্রেরণার উৎস। শিক্ষক ওয়াসিম রাজা তিনিও বলেন,কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি মানুষের ভালোবাসার মূল কারণ হলো তাঁর সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, যেখানে তিনি সামাজিক শোষণ,অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর বিদ্রোহী সত্তা, অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী দর্শন, মানবতার জয়গান এবং তাঁর শক্তিশালী লেখনী মানুষকে মুগ্ধ করে।পাশাপাশি, নিজের জীবনের কঠিন সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার যে উদাহরণ তিনি রেখেছেন, তাও তাকে অনেকের কাছে প্রিয় করে তুলেছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক ব্রতী বিশ্বাস (দত্ত) তিনিও বলেন,পশ্চিম বঙ্গ সরকার ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের অধীনে, কাজী নজরুল ইসলাম আকাদেমি প্রতিষ্ঠা হয়েছে,এই উদ্দেশে। রবীন্দ্র চর্চার পাশাপাশি নজরুল চর্চা আরও বেশি প্রশারিত করতে হবে, জনসাধারণ ও ছাত্র সমাজের মধ্যে। যেহেতু আগামী প্রজন্মের পড়ুয়াদের কে আমরা নালিশ করতে পারবো,তাই সেই সব স্কুলের পড়ুয়াদের কে নিয়ে, নজরুলের উপর পড়াশোনা বাড়াতে পারে এবং নজরুলের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সুস্থ্য সংস্কৃতি চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সেই উদ্দেশ্যে এই আয়োজন। এই সকল কারণে নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি নন, তিনি দেশ ও দশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার সৃষ্টি ও আদর্শ আজও মানুষকে প্রভাবিত করে।