
যক্ষা রোগীদের পাশে বাঁকুড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবী
সাধন মন্ডল, তালডাংরা, বাঁকুড়া:- লকডাউনের সময় এলাকার অসহায় গরীব মানুষগুলো যখন দু'বেলা দু'বেলা দু'মুঠো খাবার জোটাতে হিমশিম খাচ্ছে তখন তাদের দেখে যন্ত্রণায় হৃদয় কেঁদে ওঠে তালডাংরার লদ্দা গ্ৰামের গৃহবধূ হেনা খাতুনের। বিপদের সময় তাদের পাশে থাকার ইচ্ছে মনের মধ্যে জেগে ওঠে। সেটা প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গেই শাশুড়ি, স্বামী সহ পরিবারের সদস্যরা তার পাশে এসে দাঁড়ান। সেই থেকেই শুরু হয় সমাজসেবার কাজ এবং সেটা আজও চলছে। তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। কখনো গরীব ঘরের পড়ুয়াদের হাতে যেমন তিনি তুলে দেন শিক্ষা সামগ্রী তেমনি গ্রীষ্মের প্রখর রোদের হাত থেকে বাঁচার জন্য হকারদের হাতে তুলে দেন ছাতা, টুপি অথবা জলের বোতল। এমনকি শিব ভক্তদের পাশেও তিনি ছিলেন। দুর্গাপুজো হোক বা ইদ - এলাকার গরীব মানুষরা জানেন তাদের সন্তানের হাতে নতুন জামা তুলে দিতে 'হেনা মা' ঠিক হাজির হবেন। বাস্তবে সেটাই হয়। সেই হেনা দেবী প্রোটিন জাতীয় কিছু খাদ্য সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হন স্থানীয় হাড়মাসড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। তারপর সেগুলি তুলে দেন সেখানে ভর্তি থাকা কয়েকজন যক্ষা রোগীর হাতে। সেগুলি পেয়ে রুগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা খুব খুশি। জনৈক যক্ষ্মা রুগী বললেন, ওই খাবারগুলো আমাদের খুব প্রয়োজন হলেও আর্থিক কারণে কেনা সম্ভব ছিলনা। এগুলো পেয়ে আমাদের খুব উপকার হলো। আমরা হেনা মায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। শুধু ওরা নয়, হেনা দেবীর এই উদ্যোগের জন্য হাসপাতালের চিকিৎসক সহ এলাকার বাসিন্দারা খুব খুশি। যাইহোক, ফল বিতরণ করার সময় তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন তালডাংরা গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ, ডাক্তার, নার্স সহ অন্যান্য কর্মীরা। অন্যদিকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়ে হেনা দেবী বললেন, নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করি মানুষের পাশে থাকতে। পাশে থাকার জন্য পরিবারের সদস্য সহ অন্যান্যদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।