
ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে ১১৩তম যুদ্ধজাহাজ ‘ইক্ষাক’ তুলে দিল জিআরএসই
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো
ভারত সরকার
********
কলকাতা, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
আরও একটি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই) লিমিটেড আজ ‘ইক্ষাক’ নামক যুদ্ধজাহাজটি ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দিল।
‘ইক্ষাক’ — যার অর্থ পথ প্রদর্শক — জিআরএসই নির্মিত চারটি সার্ভে ভেসেল (লার্জ)-এর শৃঙ্খলায় তৃতীয় জাহাজ। এই শ্রেণীর দ্বিতীয় জাহাজ ‘আইএনএস নির্দেশক’ ৮ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে এবং প্রথম জাহাজ ‘আইএনএস সান্ধ্যায়ক’ ৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে হস্তান্তরিত হয়।
প্রসঙ্গত, এই যুদ্ধজাহাজটি নির্মাণের কাজ শেষ হয়ছে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে। ঠিক এর আগে, জিআরএসই উন্নত গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট ‘হিমগিরি’ নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। সান্ধ্যায়ক শ্রেণির এই জরিপ জাহাজগুলি, যেমন ‘ইক্ষাক’, দেশে নির্মিত ও নৌবাহিনী পরিচালিত সর্ববৃহৎ প্ল্যাটফর্ম।
‘ইক্ষাক’ জিআরএসই-র নির্মিত ৮০২তম জাহাজ ও ১১৩তম যুদ্ধজাহাজ। এটি নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরিত ৭৫তম যুদ্ধজাহাজ — যা ভারতের অন্য কোনো জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
জিআরএসই ও ভারতীয় নৌবাহিনীর সম্পর্ক শুরু হয় ১৯৬১ সালে, যখন প্রথম দেশীয় যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস অজয়’ হস্তান্তর হয়। তারপর থেকে আরও ৭৪টি যুদ্ধজাহাজ যুক্ত হয়েছে, যা সরকারের আত্মনির্ভরতা নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে নৌবাহিনীকে ‘ক্রেতা’ থেকে ‘ঠিকাদারে রূপান্তরিত করেছে।
১১০ মিটার লম্বা ‘ইক্ষাক’ অর্পিত হওয়ার পর ‘আইএনএস সান্ধ্যাযয়ক’ ও ‘আইএনএস নির্দেশক’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নৌবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ জরিপ তথ্য সরবরাহ করবে, যা ব্যবহারিক প্রয়োজনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত মানচিত্র ও চার্ট বাণিজ্যিক নৌপরিবহনেও ব্যবহৃত হবে।
এই গৌরবময় যুদ্ধজাহাজটি ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষে কমোডর অরবিন্দ চাড়ি, সিএসও (টেক) (সাউথ) গ্রহণ করেন।
উন্নত সরঞ্জাম-সজ্জিত এই শ্রেণির এসভিএল উপকূল ও গভীর জলের পূর্ণাঙ্গ হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, বন্দর প্রবেশপথ এবং নৌচলাচলের পথ নির্ধারণ করতে সক্ষম। এছাড়াও, সামুদ্রিক সীমানা সমীক্ষা ও প্রতিরক্ষা ব্যবহারের জন্য মহাসাগরীয় ও ভূগোলগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, যা ভারতের সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধি করে।
এই জাহাজগুলি প্রত্যেকটি হেলিকপ্টার বহন, নিম্ন-তীব্রতার যুদ্ধ, হাসপাতাল জাহাজ হিসেবে কাজ এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ পরিচালনা করতে সক্ষম। দুটি মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন ও ফিক্সড-পিচ প্রপেলারের সঙ্গে বো ও স্টার্ন থ্রাস্টার লাগানো থাকায় জরিপকালে গতি নামিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে। সম্পূর্ণ জিআরএসই-র ডিজাইনে ‘ইক্ষাক’ সুসংহত নির্মাণ প্রযুক্তি অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে, যা ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি (আইআরএস)-র নিয়মকে মান্যতা দেয়।
বর্তমানে, জিআরএসই নৌবাহিনীর জন্য আরও ১৪টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে, যার মধ্যে রয়েছে দুটি পি১৭এ উন্নত গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট, একটি এসভিএল, সাতটি অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট এবং চারটি নেক্সট জেনারেশন অফশোর পেট্রোল ভেসেল।
*******
SSS/RS/14.8.25