শব্দহীন জোছনা
মালা মুখোপাধ্যায় (কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান)

দূর থেকে চলে যাওয়া দেখি…
তখন নদী তুমি
এক মায়ের মতো
আমাদের লালন পালনে ব্যস্ত।
আর
খুব কাছে যেতেই
শুনি স্রোতের শব্দ …!
ছলাৎ ছলাৎ অগুনতি ধাক্কা ….
আমি বার বার কেঁপে উঠি।
পূর্ণিমার চাঁদের আলোয়
স্পর্শ করি তোমায়।
নদী যেন তখন গাছ কোমরে বাঁধা ডুরে কাটা তাঁতের শাড়ি পরে এক পূর্ণ যুবতী।
কী ভয়ঙ্কর সুন্দর সমর্পণ!
খুব ভয় পেয়েছিলাম জানো। মাথা টলে যাওয়ার। যে সাঁতার আমি জানি তাতে কোনো কাজ হবে না তোমার স্রোতের টানের কাছে।
আমি মৃদু হাসলাম। এক পা দুই পা পিছিয়ে এলাম। আর দুই চোখ ভরে তোমার উচ্ছলতা মেখে নিলাম।
অবিরাম কত ছলাকলা কত রকম ভাবে তীরে এসে দেখাচ্ছো তুমি !
আমার দুই চোখে তখন কেবল তুমিই!
সেদিন তুমি অনেক দূরে ছিলে।
চিহ্ন রেখে দিয়ে গেছো
নানান কচুরিপানা
একেবারে শিকড় ছড়িয়ে।
বুঝলাম,এসেছিলে খুব কাছে
তখন যেতে পারিনি
হয় তো ব্যস্ত ছিলাম কাজে।
জানি,
আবার যাবো তোমার কাছে,
দেখবো তোমায়
শব্দহীন জোছনায়
রাজরানীর মতো
বেনারসি শাড়ি আর ঝলমলে রূপের বাহারে
অন্দরমহল বারমহল সব মিলে মিশে একাকার….
আমি তখন হাঁটু গেড়ে বসে তোমার কাছে
খুব গোপনে ফিসফিসিয়ে বলবো তোমার বহতায় রেখো একটু জায়গা…!