ঊষার পাহাড়ে
নার্গিস পারভীন (বাজেপ্রতাপপুর, পূর্ব বর্ধমান)

আমাকে অমন করে ডেকো না
ফিরতি পথে দেখা হবে
তখন একটু জিরিয়ে নেবো
এখন যেতে হবে অনেক দূরের
রূপ শালির মাঠ আর কাশবন পেরিয়ে
ওই দিগন্ত পারে
যেখানে পথ এঁকেবেঁকে গেছে পাহাড়ের দিকে
ঝুরি নামা বট, ছাতিমের সারি
তারপর আরো দূরে ঊষার পাহাড়ে
কোন এক বিকেলে ঠিক ফিরব এখানে
অপেক্ষা করো
একটা দিনের উর্বরতা এনে তোমাকে দেবো
গোলাপ রাঙা নির্ভরতায়
সময়ের পালকে বেশ করে ঝেড়ে নিও
আরো চকচকে হবে।
এখন আর বসতে বলো না
আমাকে যেতে হবে গৈরিক আকাশের ওপারে
সেখানে সূর্যোদয়ের একটা দেশ আছে
সে দেশে নাকি নোনা পানির নদী নেই
বর্ণহীন কষ্টের বৃষ্টি নেই
অবিরত প্রশান্তির শিশির ঝরে।
সেখানে নাকি জোৎস্না বাড়ির মেয়েরা
দলে দলে ভিজতে আসে
আর পুরুষেরা মাদলের তালে তালে নৃত্য করে–
তারপর আচমকা হেঁচকা টানে খুলে ফেলে
অহমিকার সুচারু বসন
তারপর একটু একটু করে প্রতিদিন
মানুষ আর প্রেমিক হয়ে ওঠে।
তারপর শিশিরে ভিজে কখনো হাসে
কখনো অনুতাপে কাঁদে
আবার কখনো আপাদমস্তক অনুশোচনার ওম রাখে
নিজেদের সর্বাঙ্গে–
সেখানে সূর্য ওঠে প্রতিদিন
নতুন নতুন সকাল আসে
উৎসবের বাদ্য বেজে ওঠে প্রতিটা আঙিনায়
তারপর –
ফিরে এসে বলবো তোমাকে
তুমি জোৎস্না বাড়ির মেয়েদের মতো
সবুজ পাড়ের শাড়ি পরো কিন্তু,
আমি ওদের হয়ে
তোমার আঁচলের টানে আবার ফিরে আসবো–