
‘খেলা হবে দিবস’ পালিত হলো মঙ্গলকোটে
জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান -: ৭০-৮০ -র দশকে ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাঙালি আবেগ ছিল অপরিসীম। মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গলের ডার্বি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সেই আবেগ চরম পর্যায়ে পৌঁছে যেত। ১৯৮০ সালের ১৬ ই আগস্ট এরকমই এক ডার্বিকে কেন্দ্র করে ঘটে যায় এক অপ্রীতিকর ঘটনা। খেলার মাঠের উত্তেজনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে। দু'দলের সমর্থকরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং ১৬ জন ক্রীড়াপ্রেমী নিহত হন। আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। এই ঘটনার প্রায় চার দশক পর ২০২১ সালের ২১ শে জুলাই ভার্চুয়াল জনসভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দিনটি 'খেলা হবে' দিবস হিসাবে ঘোষণা করেন। তারপর থেকে রাজ্য জুড়ে দিনটি খেলা হবে দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।

মঙ্গলকোট ব্লক যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে এবং মঙ্গলকোট পঞ্চায়েত সমিতি ও সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক দপ্তরের সক্রিয় সহযোগিতায় গণপুর ফুটবল ময়দানে আয়োজিত হয় 'খেলা হবে দিবস'। খেলায় অংশগ্রহণ করে পালিগ্রাম অঞ্চল ফুটবল একাদশ ও চাণক অঞ্চল ফুটবল একাদশ। টানটান উত্তেজনা পূর্ণ ম্যাচে প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করে চাণক একাদশ ৩-০ গোলে পালিগ্রাম একাদশকে পরাস্ত করে। বিজয়ী দল প্রথমার্ধে রকেটের দেওয়া দু'টি গোলে এগিয়ে থাকে ও দ্বিতীয়ার্ধে ১ টি গোল করে। পালিগ্রাম একাদশ একাধিকবার চাণক একাদশের গোলমুখে পৌঁছে গেলেও খেলোয়াদের ব্যর্থতার জন্য তারা কোনো গোল পায়নি। বয়সকে হার মানিয়ে ৪৭ বছর বয়সেও অসাধারণ ফুটবল উপহার দেন চাণক একাদশের বিপদতারণ সাহা (কটা)। খেলার শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। খেলাটিকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াপ্রেমীদের যথেষ্ট ভিড় হয়। উপস্থিত ছিলেন মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী, মঙ্গলকোট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সান্ত্বনা গোস্বামী সহ একাধিক দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ, চাণক পঞ্চায়েত প্রধান সরস্বতী কোঁড়া, মঙ্গলকোট থানার আইসি মধুসূদন ঘোষ সহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি। প্রত্যেকেই যুব সমাজকে মোবাইল ছেড়ে খেলার মাঠে আসার জন্য আহ্বান জানান। তাদের মতে এরফলে যেমন চরিত্রগঠন হবে তেমনি স্বাস্থ্য ভাল হবে ও মন থেকে কুচিন্তা দূর হবে।