উমা

সুজান মিঠি (জামালপুর, পূর্ব বর্ধমান)

আমার দুয়ারে বিকেল গড়িয়ে পড়ছে।
আট চালায় বসে মধুসূদন মায়ের হাত গড়ছে
পা গড়ছে…
সামনে বসে ঘেয়ো কুকুর ভেলো একটানা চিৎকার
করছে…
এলোচুলো মেয়েটা আশীষ বাবুর বখাটে ছেলেটার
হাত ধরে ভেসে ভেসে গেল বিশ্বাসে।

আমার বিকেল বেলার কেদারায় এসে বসল
আমার অন্য বিকেলখানা। হাতে চায়ের ট্রে।
শুনছো! এবার পুজোয় মেয়েটাকে আসতে বলি
একবার?
কোন মেয়ে? আমি জিজ্ঞেস করে ফেলি আনমনে।
চায়ের কাপ নিশ্চুপ হয়ে যায়…
পায়ের নিচে ঘাস ভিজে মনে হল হঠাৎ আমার!
এ কী প্রশ্ন করলাম আমি?
ওই একটাই তো ভোর ছিল আমাদের!

আমার আভিজাত্যের অহংকারে মোড়া রোদ্দুর
দ্বিপ্রহরে দাঁড়িয়ে যাকে চিৎকার করে বলেছিলাম,
আমার সামনে দাঁড়িয়ে তোমার এমন সিদ্ধান্ত
জানাতে ভয় করছে না?
খটখটে রোদ্দুরে তার পায়ের নীচে ঘাস ভিজেছিল
নাকি পুড়ে খাক হয়েছিল…সে খোঁজ রাখিনি।

ছেলেটার একলা ঘর, একার অসুখ,
কুষ্ঠ।
মেয়েটা আঁচলে শিউলি কুড়িয়ে শরতের
পায়ে পায়ে এসে দাঁড়াল মায়ের সামনে।
সব ফুল মায়ের পায়ে দিয়ে এক ছুটে চলে গেল
পথে…এক ছুটে একলা ঘরের দ্বিতীয় হতে!

দশমীর পরে দেবীর নিরঞ্জনে আমার প্রবল দুপুরবেলা
জলে ডুবিয়ে দিয়েছিল দেবীর পায়ে রাখা সেই
শিউলি…
চিৎকার করেছিল আমার দাপট, আমার কোনো
সন্তান নেই আর!

পায়ের নীচে ঘাস ভিজে লাগছে অনেকক্ষণ,
চায়ের কাপ শান্ত,
চিনি ছাড়া, দুধ ছাড়া। ডায়াবেটিস চারশো।

মধুসূদন গলা ছেড়ে গান গাইছে দেবী গড়তে
গড়তে, ‘এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে
জয় মা বলে ভাসা তরী…’

বললাম, ওরা কোন শ্মশানে থাকে, জানো তুমি?
চায়ের কাপ নড়ে উঠল। বলল, জানি তো!
কুষ্ঠ সেরে গেছে ছেলের। রিকশা টানে।
আমাদের মেয়ে স্কুলে পড়ায়…

আমার বিকেল পড়ন্ত। সন্ধে গড়াবে একটু পরেই।
বললাম, বেশ ডাকো।
মধুকে তাড়া দিলাম,
ওহে মধু! তাড়াতাড়ি করো হে! তোমার মেয়েকে আনতে যাবে তো নাকি বাড়ি ফিরে?

মধুর সুর তখন অন্য বাঁকে, হ্যাঁ বাবু! যাবো তো!
জামাই টা খুব মারে মেয়েটাকে। তাই ওর মা
বলেছে, এবার আমার উমা এলে আর উমা
পাঠাবো না…

CATEGORIES

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )