আবার মেট্রোয় সোনা

উজ্জ্বল দাস (কলকাতা)

মেট্রোতে আজ বেজায় গণ্ডগোল আর এসব হলে’যে ভীষণ একটা ভিড় হয়ে যায় সে আপনারা জানেন। আসল ঘটনা হলো এই ভিড় আর শুধুশুধু দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করা বেশ কঠিন প্রায় সবার কাছেই।

একটু এদিক ওদিক তাকাতেই দেখলাম একটা বাইশ চব্বিশ বছরের পড়ুয়া। পিঠে হলুদ কালো রঙের ব্যাগ, পায়ে সাদা রঙের ক্রক্স। পরনে একটু সেকেলে ঢোলা পোশাক, চুলগুলো জুলজুল করে চারদিকে ঝুলছে। হাতে মোবাইল নিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে কিছু মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। মানুষের মুখ যদিও ঘুষ দিয়ে, অনুনয় বিনয় করে বন্ধ করা যায় যন্ত্রের মেমোরি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবে, না জেনেবুঝেই।

ওপরে দেখলাম লেখা আছে গোল্ড। হঠাৎ চোখে পড়লো “দশ মিনিটে ম্যসেজ করছি, নেট না থাকলে রাত্রে কথা হবে”।
তারপর যা দেখলাম সারাদিন নানা রকম অ্যাপস্ থেকে কল আর ম্যসেজ সে হোয়াটস্অ্যাপ্ বা ম্যাসেঞ্জার আর নরমাল ভয়েস কল। এদিক ওদিক সেদিক সবকটা জায়গা ঘুরে যন্ত্রের গোটা শরীর থেকে গোল্ডকে মুছে সরিয়ে দেবার আপ্রাণ চেষ্টা। মনে মনে ভাবলাম এই বয়সের একটা ছেলে নিশ্চই অবিবাহিত। কিন্তু বাবা মা কী এভাবে মোবাইল চেক করেন যাতে সব ইঞ্চি ইঞ্চি খুঁজে মুছে ফেলতে হবে।

না ভুল ছিলাম আমি। তখনও ট্রেন ঢোকেনি। আমি তাকিয়ে ছিলাম আর একবার। দেখলাম আবার নতুন চ্যাট শুরু হয়েছে এবার গোল্ড নয় এবার নাম দেখলাম অভিপ্সা। তাকে লিখলো “দশ মিনিট দাঁড়াও আমি আসছি। মেট্রোতে গণ্ডগোল আছে। নেট না থাকলে ভাববে মেট্রোতে আটকে”। অবশেষে ঝড়ের গতিতে সারাদিনের গল্প পরিষ্কার করার কারণটা অন্তত বুঝলাম। না হলে আজ আর ঘুম হতো না। মুহূর্তে গোল্ড অর্থাৎ সোনা বদলে যেতে পারে অভিপ্সায়।

CATEGORIES

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus (0 )